আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৩৯ পিএম
নেপালে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন আড়াই হাজারেরও বেশি মানুষ। নিখোঁজদের মধ্যে বিশ্বের অন্তত ৩৬টি দেশের প্রায় ৬০০ জন বিদেশি পর্যটক, তীর্থযাত্রী রয়েছেন, যা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়কে আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ দিয়েছে।
নেপালের পুলিশ জানিয়েছে, এখনো ৫৮৯ জন বিদেশিসহ দুই হাজার ৫০২ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন ভারতের নাগরিক।
দিল্লির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এখনো অন্তত ৩২০ জন ভারতীয় নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের অনেকেই তিব্বতের কৈলাস-মানস সরোবর তীর্থযাত্রার গিয়েছিলেন।
নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে এর পরেই রয়েছেন চীনা নাগরিকরা। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
অন্যদিকে ৯০ জন মার্কিন নাগরিক নিখোঁজের তথ্য জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আর নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৬২ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক বন্যার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
ফিশটেইল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস নামক একটি কোম্পানির সাথে ভ্রমণরত ৫১ জন মালয়েশীয় নাগরিক নিখোঁজ রয়েছে জানিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা।
৪১ জন অস্ট্রেলিয় নাগরিকের খোঁজ এখনো মেলেনি বলে জানিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার এসিসটেন্ট ইমিগ্রেশন মিনিস্টার।
নেপাল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক এখনো নিখোঁজ। এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিব্বতে ১৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। যার মধ্যে নেপালের তালিকায় কতজন অন্তর্ভুক্ত সেটি স্পষ্ট নয়।
কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩০ কানাডিয়ান নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
এছাড়াও দক্ষিণ কোরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, বেলারুশ, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, ইসরায়েলের এবং নিউজিল্যান্ডের বেশ কয়েকজন পর্যটক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
এদিকে সীমান্তের ওপারে চীনের তিব্বত অংশে আরও ২৬১ জন বিদেশি নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে ১০৪ জনই নেপালি নাগরিক।
অন্যদিকে নেপালের রাসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ত্রিশূলী ৩এ এবং ৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলের ভেতর এখনও শতাধিক দেশি-বিদেশি শ্রমিক আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেপালি সেনাবাহিনীসহ উদ্ধারকারী দলগুলো হেলিকপ্টার ও স্থলপথেনিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। তবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, কাদামাটি ও ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের পরিচয় নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস ও নেপালি কর্তৃপক্ষ তথ্য সংগ্রহ করছে। তবে মৃত, নিখোঁজ ও উদ্ধার হওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
এছাড়াও নিখোঁজের তালিকায় একই ব্যক্তির নাম একাধিকবার থাকা, উদ্ধার হওয়ার পরও তালিকা থেকে নাম বাদ না পড়া এবং দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার কারণে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবেও পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিখোঁজের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করা কঠিন।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন
এমএইচআর