আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৫৬ পিএম
হিমালয়ের বুক থেকে প্রকাণ্ড এক হিমবাহের অংশ ভেঙে যাওয়ার ফলে নেপালে আকস্মিক এক ভয়ংকর বন্যা আসে। অনেকেই এটাকে পাহারের সুনামিও বলছে।
পাহার থেকে আসা কাদামাটির স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছে নিচু লোকালয়। বিপর্যয়ের সেই মুহূর্ত এক পর্যটক ক্যামেরাবন্দি করেছেন!
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও চিত্রে দেখা গিয়েছে, পাহাড়ের গায়ে লেপ্টে আছে সাদা সাদা মেঘ। তার মধ্যেই বরফের ধ্বংসস্তূপ ধোঁয়ার আকারে উপরে উঠছে।
ওই ভিডিওর সময় এবং স্থান তিব্বতের বিপর্যয়ের সময়ের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এটাই সেই মুহূর্ত। চীনের শিজ্যাং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের গিরং এলাকায় এক পর্যটক গত ২৬ অগস্ট ঘুরতে ঘুরতে হিমালয়ের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করছিলেন। তার ক্যামেরাতেই বিপর্যয়ের মুহূর্ত ধরা পড়েছে।
চাইনিজ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেস-এর অধীন ইনস্টিটিউট অফ মাউন্টেন হ্যাজার্ডস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টের ডিরেক্টর ক্যাং শিচ্যাং পর্যটকের তোলা ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন।
তিনি জানিয়েছেন, রিমোট সেন্সিং ইমেজারির মাধ্যমে হিমবাহ ভেঙে যাওয়ার যে জায়গাটি চিহ্নিত করা হয়েছে, ভিডিওতে সেই জায়গাই দেখা যাচ্ছে।
নেপালের দিকে হিমবাহ ভাঙার ফলেই ওই ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়েছে ভিডিওতে। চীনা সংবাদমাধ্যমে দাবি, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫১৪০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহে ধস নামে। তা ছড়িয়ে পড়ে প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার বর্গমিটার এলাকায়।
এই ধসের ফলে বরফ, কাদামাটি ও পাথরের যে ধ্বংসাবশেষ তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী সাত মিনিটের মধ্যে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে পাড়ি দেয় প্রায় ২০ কিলোমিটার পথ, পৌঁছে যায় গিরং বন্দরে! এই সময় ৫১৪০ থেকে ৩৩০০ মিটার উচ্চতায় নেমে এসেছিল বরফের ধ্বংসস্তূপ।
বুধবার সকালে নেপালের সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলার ভোটেকোশী নদীতে এই হিমবাহ ধসের ফলেই আকস্মিক বন্যা আসে। তা ভাসিয়ে নিয়ে যায় গ্রামের পর গ্রাম, ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, গাড়ি, সেতু।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল পর্যন্ত ৬১৬ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে নেপাল পুলিশ। নিখোঁজ তিন হাজারের বেশি মানুষ। তার মধ্যে অনেক ভারতীয়ও রয়েছেন। ভারত থেকে কৈলাস-মানস সরোবর দর্শনের উদ্দেশে অনেক পর্যটক নেপালে গিয়েছিলেন।
-এমএমএস