Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

মরদেহে উপচে পড়ছে মর্গ, ছবি-ডিএনএ রেখে নেপালে গণসৎকারের প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২৯ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫১ এএম

মৃতদেহে ভরে গেছে মর্গ। বাইরে অপেক্ষায় আরও মরদেহ। ধ্বংসস্তূপ, নদী আর কাদার ভেতর থেকেও একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে মরদেহ। এমন পরিস্থিতিতে নিখোঁজ স্বজনের ছবি হাতে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন স্বজনেরা। কিন্তু মৃতদেহ সংরক্ষণের জায়গা ফুরিয়ে আসায় এখন শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলোর ছবি ও ডিএনএ নমুনা রেখে গণসৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত নেপালে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩৩ জনে। নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় আড়াই হাজার। তাদের মধ্যে তিন শতাধিক ভারতীয় নাগরিকও আছেন।

নুয়াকোট, ধাদিং, গোর্খা, তানাহুন, চিতওয়ান ও নাওয়ালপারাসিসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিয়ত মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। প্রবল পানির স্রোতে অনেক মরদেহ দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ভেসে গেছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ শনাক্ত দুই কাজই কঠিন হয়ে পড়েছে।

মর্গে জায়গা না থাকায় কয়েকটি পরিত্যক্ত সরকারি ভবনকে অস্থায়ী মরদেহ সংরক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে নেপাল সরকার। এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মরদেহ পাঠানোর ব্যবস্থাও খুঁজছে কর্তৃপক্ষ।

Nepal_news

চিতওয়ান জেলায় পরিস্থিতি সবচেয়ে সংকটপূর্ণ। বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জরুরি বৈঠক করেন। জেলার মর্গগুলোতে একসঙ্গে মাত্র ৩০ থেকে ৫০টি মরদেহ রাখা সম্ভব। অথচ শুধু চিতওয়ানেই এখন পর্যন্ত ১৮৬টি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। ফলে পরিত্যক্ত কয়েকটি সরকারি ভবনে অস্থায়ীভাবে প্রায় ২৫০টি মরদেহ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে গণসৎকারের প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে। শনাক্ত না হওয়া মরদেহগুলো গণসৎকারের আগে বিভিন্ন দিক থেকে ছবি তোলা হবে। করা হবে ভিডিও ধারণ। পাশাপাশি সংগ্রহ করা হবে ডিএনএ নমুনা। পরে কোনো পরিবার নিখোঁজ স্বজনের খোঁজে এলে এসব তথ্যের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্তের চেষ্টা করা যাবে।

পোখরা একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসের পরিচালক সুশীল আরিয়াল জানান, বর্তমানে মর্গে ২ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মরদেহ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। তবে এভাবে সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ মরদেহ রাখা সম্ভব। এর মধ্যে স্বজনেরা এসে মরদেহ শনাক্ত করতে না পারলে গণসৎকার করা হতে পারে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ভারতের উত্তর প্রদেশেও মিলল সাত মরদেহ

নেপালের বিপর্যয়ের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে ভারতেও পৌঁছেছে। শুক্রবার উত্তর প্রদেশের মহারাজগঞ্জ ও কুশীনগর জেলার নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব মরদেহ নেপালের বন্যা ও পাহাড়ধসে নিহত ব্যক্তিদের। প্রবল স্রোতে মরদেহগুলো অন্তত ৭০ কিলোমিটার দূরে ভেসে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।

প্রায় আড়াই হাজার নিখোঁজ

সর্বশেষ পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেপালের স্মরণকালের ভয়াবহ এই দুর্যোগে এ পর্যন্ত ৬৩৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ আছেন প্রায় আড়াই হাজার। তাদের মধ্যে নেপাল, যুক্তরাষ্ট্র, ইউক্রেন, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং কানাডার নাগরিক রয়েছেন। এ ছাড়া তিব্বতের দিকে সাড়ে পাঁচশ’র বেশি চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। নেপালের দিকে নিখোঁজ চীনা নাগরিকের সংখ্যা অন্তত ১০০ বলে দাবি করেছে বার্তা সংস্থা এপি।

এমআর