আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ আগস্ট ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম
তুরস্কে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে গিয়ে ইরানি হামলার আশঙ্কায় পড়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পাওয়ার পর তাকে গোপনে অন্য একটি সামরিক বিমানে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ সময় তাকে বহনকারী নির্ধারিত বিমানকে ‘ডিকয়’ বা বিভ্রান্তিমূলক বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসে আঙ্কারায় ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের সময় ট্রাম্পের অবস্থান সম্পর্কে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য ইরানি এজেন্টদের হাতে পৌঁছে গিয়েছিল।
এমনকি তিনি কোন হোটেলে ছিলেন এবং কোন তলায় অবস্থান করছিলেন, সেই তথ্যও ফাঁস হয়েছিল। একই সময়ে ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে হামলার সম্ভাব্য হুমকির তথ্যও পায় মার্কিন গোয়েন্দারা।
গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলার আশঙ্কার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। ন্যাটো সম্মেলনের আশপাশে একটি বহনযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রসহ সন্দেহজনক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতেও দেখা যায়। এতে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
এরপর ৯ জুলাই তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা থেকে ট্রাম্পকে গোপনে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। প্রথমে তাকে প্রকাশ্যে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ উঠতে দেখা যায়। কিন্তু পরে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকের আড়ালে তাকে ওই বিমান থেকে বের করে আনা হয়। এরপর তাকে একটি ছোট সামরিক বিমান, সি-৩২এ-তে তুলে দেওয়া হয়।
সি-৩২এ হলো পরিবর্তিত বোয়িং ৭৫৭ ধরনের একটি সামরিক বিমান, যা মার্কিন সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরে ব্যবহার করা হয়। ট্রাম্পের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদেরও জানানো হয়নি যে তিনি আর ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ নেই। ফলে পুরোনো বিমানটি ট্রাম্পকে বহন করছে—এমন ধারণাই তৈরি হয়।
ক্যাটারিং ট্রাকটি ছিল এই গোপন বিমানবদল পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ট্রাম্প ও তার কয়েকজন সহযোগী ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এ ওঠার পর ট্রাকটি বিমানের বিপরীত পাশে নেওয়া হয়। ট্রাকের কনটেইনারটি হাইড্রোলিকের সাহায্যে বিমানের দরজার সমান উচ্চতায় তোলা হলে ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা আড়ালে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে ট্রাকটি তাদের নিয়ে সি-৩২এ বিমানের দিকে যায়।
এদিকে ট্রাম্পকে ছাড়াই পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’টি হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা, নিরাপত্তাকর্মী ও সাংবাদিকদের নিয়ে তুরস্ক ছাড়ে। অর্থাৎ বিমানটি কার্যত ‘ডিকয়’ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ট্রাম্পকে বহনকারী সি-৩২এ প্রথমে ব্রিটেনে যায়। সেখানে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প আবার প্রকাশ্যে একটি বিমানে ওঠেন। পরে কাতারের দেওয়া নতুন বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে করে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরেন।
তুরস্ক থেকে ফেরার সময় ট্রাম্প নিজেও নিরাপত্তাঝুঁকির কথা জানিয়েছিলেন। তার আশঙ্কা ছিল, এমনকি মাঝ আকাশেও তার বিমানে হামলা হতে পারে। পরে প্রকাশিত গোয়েন্দা তথ্য থেকে বোঝা যায়, তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বাস্তব কারণ ছিল।
মার্কিন প্রেসিডেন্টকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নিতে ‘ডিকয়’ বিমান ব্যবহারের ঘটনা অস্বাভাবিক হলেও নজিরবিহীন নয়।
ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালে পাকিস্তান সফরের সময় প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের ক্ষেত্রেও একই ধরনের কৌশল নেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৩ সালে ইউক্রেনের কিয়েভ সফরের সময় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের যাত্রাপথও অত্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল।
এআরএম