আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের ‘সঠিক অবসান’ ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা সব ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুধবার (৫ আগস্ট) তিনি জানান, এই সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—সব ধরনের কৌশলই কাজে লাগাবে। খবর আনাদোলুর।
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কেন বারবার হোঁচট খেতে হচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স দুটি কারণ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রথমত, ইরানিরা চরম একগুঁয়ে জাতি। দ্বিতীয়ত, তাদের শাসনব্যবস্থা বেশ বিভক্ত।
তিনি আরও বলেন, তাদের শাসনকাঠামোর ভেতরে এমন অনেকেই আছেন, যারা চান যুদ্ধটা শেষ হোক। আবার এমন অনেক উন্মাদ ও কট্টরপন্থি আছেন, যারা যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান।
ভ্যান্স বলেন, আমাদের কাজ হলো এসব বাধা পেরিয়ে মার্কিন জনগণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের জন্য সেরা ফলাফলটি বের করে আনা।
এই সংঘাতের একটি সমাধান আসবে বলে আশাপ্রকাশ করলেও ভ্যান্স সতর্ক করে বলেন, প্রক্রিয়াটি বেশ জটিল হবে এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগবে—তবে আমরা সফল হব। এ সময় তিনি আরও জানান যে, তেলের দাম কমে আসবে এবং তা স্থিতিশীল থাকবে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে।
তবে এই সংকটকে একটি সঠিক সমাধানে রূপ দিতে আমরা সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক—আমাদের হাতে থাকা সব হাতিয়ারই ব্যবহার করব।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বুধবার লাস ভেগাসের এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, সামরিক পদক্ষেপে যাওয়ার চেয়ে তিনি ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, আমি বরং একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষ হত্যা করতে চাই না। তবে কূটনীতি ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগের পথও যে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য খোলা রয়েছে, সেই হুঁশিয়ারিও দিয়ে রেখেছেন তিনি।
গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন এবং তেহরান একটি রূপরেখা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিল এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু করেছিল।
তবে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে নৌ চলাচলের নিশ্চয়তা নিয়ে মতবিরোধের জেরে শেষ পর্যন্ত সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।
-এমএমএস