Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিলেন শুভেন্দু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

১৯ বছর পর কলকাতায় ফেরা নির্বাসিত ও বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের নিরাপত্তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। 

শনিবার (১ আগস্ট) কলকাতার রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। 

সেকুলার মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনকে স্বাগত জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেন, ‘সুরক্ষিত পশ্চিমবঙ্গে ভয়ের বা হুমকির সংস্কৃতি এখন শেষ। আপনি যতবার খুশি বাংলায় আসতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আপনাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার কর্তব্য। নতুন সরকারের হাতে বাংলার গণতন্ত্র, সংবিধান, মৌলিক অধিকার, বাক স্বাধীনতা সুরক্ষিত।’  

এসময় তসলিমা নাসরিনের হাতে বিশেষ স্মারক এবং সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের একটি ছবি তুলে দেন শুভেন্দু। 

image

এদিকে অনুষ্ঠানে বিতর্কিত এই লেখিকার অংশগ্রহণকে ঘিরে ত্রিস্তরীয় ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে কলকাতা পুলিশের বিশেষ শাখা। অনুষ্ঠানস্থলে দর্শকদের ছাতা, ব্যাগ ও পানির বোতল নিয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এছাড়াও তসলিমার যাতায়াতের জন্য বিশেষ এসকর্ট গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়।

এরআগে গতকাল শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে দিল্লি থেকে কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তসলিমা। 

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তসলিমার ‘দ্বিখণ্ডিত’ উপন্যাসের প্রকাশ ঘিরে উত্তাল হয়ে উঠেছিল কলকাতার একটি অংশ। মুসলিম অধ্যুসিত এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল ব্যাপক উত্তেজনা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল প্রশাসনকে। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তৎকালীন বাম সরকার তসলিমার বিতর্কিত ওই বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। রাতারাতি কলকাতা ছাড়তে বলা হয় লেখিকাকে। 

পরবর্তীতে ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও, তসলিমার ক্ষেত্রে এই ‘অলিখিত নিষেধাজ্ঞা’ বহাল রেখেছিল তৃণমূল সরকার। অবশেষে দীর্ঘ সময় পার করে রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনের পটপরিবর্তনের আলোয় শাসনক্ষমতায় পালাবদলের পর ফের রাজ্যে ফিরছেন তসলিমা।

এরআগে আশির দশকের শেষের দিকে বাংলাদেশে তসলিমা নাসরিনের কলাম এবং পরবর্তীতে উপন্যাসগুলোতে নারী নির্যাতন ও ইসলাম বিদ্বেষ সমাজের রক্ষণশীল অংশকে ক্ষুব্ধ করে তোলে। ১৯৯৩ সালে তার বিতর্কিত উপন্যাস ‘লজ্জা’ প্রকাশের পর তার ফাঁসির দাবি করে ধর্মীয় সংগঠনগুলো। 

পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে মামলা হওয়ার পর, তিনি প্রায় দুই মাস আত্মগোপনে থাকেন এবং অবশেষ বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। এসময় তার বাংলাদেশি পাসপোর্ট বাতিল করে তৎকালীন বিএনপি সরকার। বিভিন্ন সময় তিনি দেশে ফেরার চেষ্টা করলেও কোনো সরকারই তাকে দেশে ফেরার অনুমতি দেয়নি। এরপর ইউরোপে গিয়ে সেখান থেকে এসে কলকাতায় এসে বসবাস শুরু করেন। তবে সেখান থেকেও তাকে বিতাড়িত করা হয়।

সূত্র: সংবাদপ্রতিদিন

এমএইচআর