Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনে ব্যাপক রুশ হামলা, পোল্যান্ডে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ায় ন্যাটো সতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

৩১ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৪ এএম

ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে আঘাত হেনেছে। পোলিশ কর্মকর্তারা প্রাথমিকভাবে এটিকে রাশিয়ার তৈরি ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করছেন। ন্যাটো সদস্য দেশটির ভূখণ্ডে এ ঘটনায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

৩০ জুলাই রাতে চালানো এ হামলায় ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ৮ থেকে ১৩ জনের মধ্যে। এ সংখ্যা হালনাগাদ হতে পারে। নিহতদের মধ্যে শিশুও রয়েছে। এ ছাড়া অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। কিয়েভসহ ইউক্রেনের কয়েকটি শহর ও অঞ্চল হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

একই রাতে পূর্ব পোল্যান্ডের লুবলিন এলাকার কাছে তারনাভা-কোলোনিয়া গ্রামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে বিস্ফোরিত হয়। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে স্থানটি প্রায় ৫৫ মাইল (৯০ কিলোমিটার) ভেতরে। বিস্ফোরণে খোলা মাঠে প্রায় ১০ মিটার চওড়া একটি গর্ত তৈরি হয়। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

আরও পড়ুন: মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে মালয়েশিয়া হয়ে চীনে যায় ইরানের তেল

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক জানান, প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী ক্ষেপণাস্ত্রটি রাশিয়ার তৈরি খ-১০১ (Kh-101) ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি ইচ্ছাকৃতভাবে পোল্যান্ডকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ঘটনার পর পোল্যান্ড ও ন্যাটো আকাশসীমায় নজরদারি বাড়ায়। পোলিশ এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, ন্যাটোর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান, নজরদারি বিমান ও হেলিকপ্টার এ কাজে অংশ নেয়।

ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ বলেন, ন্যাটো নিজেদের ভূখণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

আরও পড়ুন: রাশিয়া ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিল পাস

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, ন্যাটোর সদস্য দেশ পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার ঘটনা যুদ্ধের ঝুঁকি ইউক্রেনের সীমান্তের বাইরে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে। তবে এটিকে এখনই ন্যাটো ও রাশিয়ার সরাসরি সংঘাতের সূচনা হিসেবে দেখছেন না তারা।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিএনএন, আল জাজিরা