বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ঢাকা

রাশিয়া ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিল পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ৩০ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৬ এএম

শেয়ার করুন:

রাশিয়া ও ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিল পাস
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়া ও ইরানের ওপর আগের চেয়েও কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রে একটি দ্বিদলীয় বিল অনুমোদন পেয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সেনেটে বিরল এক দ্বিদলীয় ভোটাভুটিতে ৮৬-১২ ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়। এর মাধ্যমে ইউক্রেইন ও পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দুটি দেশের অর্থনীতিকে আরও চেপে ধরার পথ সুগম হল।

এই বিলের আওতায় রাশিয়া এবং রুশ তেল ও গ্যাসের ক্রেতা দেশগুলো কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে এবং ইরানের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো আরও বিস্তৃত হবে।

বিলটির নাম রাখা হয়েছে এর অন্যতম রূপকার, সাউথ ক্যারোলাইনার প্রয়াত রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের নামে। ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়াকে সাজা দিতে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান, উভয় শিবিরেরই এটিতে জোরালো সমর্থন ছিল।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বিলটিতে সবুজ সংকেত দেন। তবে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা জোরদার করার বিষয়টি এতে যুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

বিলটির আরেক সহ-লেখক ডেমোক্র্যাটিক সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল জানান, রুশ জ্বালানি কিনে যেসব দেশ মস্কোর যুদ্ধ তহবিলে অর্থ জোগাচ্ছে, বিশেষ করে চীন ও ভারতকে জবাবদিহির আওতায় আনাই এই আইনের মূল লক্ষ্য।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, স্পষ্ট করে বললে, এখানে চীন ও ভারতই প্রধান লক্ষ্য। তারা বিপুল পরিমাণ রুশ তেল ও গ্যাস কিনছে। তারা রাশিয়ার যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি জোগাচ্ছে এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের কোনও উপকারে আসছে না।

পুতিনের ‘যুদ্ধযন্ত্র’ নিশানা

সেনেটের আর্মড সার্ভিসেস কমিটির চেয়ারম্যান রিপাবলিকান সেনেটর রজার উইকার বিলের পক্ষে মত দিয়ে বলেন, পুতিন সাধারণ মানুষ বা নিজ দেশের সেনাদের জীবন পরোয়া করেন না। তবে তিনি তার যুদ্ধযন্ত্রের শক্তিকে গুরুত্ব দেন, যা দাঁড়িয়ে আছে জ্বালানি বিক্রির টাকার ওপর।

ইউক্রেইনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ক্যাপিটল হিল সফর এবং চলতি মাসের শুরুর দিকে প্রয়াত সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের স্মরণে আয়োজিত প্রার্থনার পরপরই বিলটি সেনেটে পাস হয়।

নতুন এই আইনের আওতায় রুশ কর্মকর্তা, অলগার্ক, তাদের পরিবারের সদস্য এবং রাশিয়ার যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সহায়তায়ক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় আনা হবে।

এছাড়া সস্তা অপরিশোধিত তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়াতে ব্যবহৃত রাশিয়ার গোপন ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া বহরও থাকবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়।

একই সঙ্গে এই বিলে ট্রাম্পকে রুশ তেল-গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশ এবং নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সাহায্যকারী দেশগুলোর পণ্যে উচ্চহারে (১০০ শতাংশ পর্যন্ত) শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি ১৯৯৬ সালে প্রবর্তিত একটি আইনি ধারা নবায়ন করা হয়েছে, যা চলতি বছরের শেষ দিকে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এটি ইরানের আর্থিক ও অস্ত্র খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জোরদার করবে।

শুল্ক ক্ষমতা নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি

বিলটি বিপুল ভোটে প্রাথমিক অনুমোদন পেলেও কিছু ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা এর কঠোর বিরোধিতা করেছেন। ১০ জন ডেমোক্র্যাট, স্বতন্ত্র সেনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং রিপাবলিকান সেনেটর র‍্যান্ড পল বিলটির বিপক্ষে ভোট দেন।

বিরোধীদের মূল আপত্তি ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নিয়ে। সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একক শুল্ক ক্ষমতার লাগাম টানার পর এই বিলে তাকে আবার সেই ঢালাও ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

সেনেটর পিটার ওয়েলশ বলেন, কোন দেশকে সাহায্যকারী হিসেবে গণ্য করা হবে বা কার ওপর শুল্ক আরোপ করা যাবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সীমা এই বিলে নেই। এটি মূলত প্রেসিডেন্টের হাতে যেকোনো দেশকে যেকোনো অজুহাতে শুল্ক আরোপ করার ঢালাও ক্ষমতা তুলে দেওয়া।

সেনেটর রাফায়েল ওয়ারনক ভোটাভুটির আগে জানান, বিলে ট্রাম্পকে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ দেওয়া হলেও পুতিনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে তিনি এতে সম্মতি দিয়েছেন।

এআরএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর