আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩৭ পিএম
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কিউশু দ্বীপে আঘাত হানা ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি শপিং মলের অংশ ধসে পড়ে বহু মানুষ ভেতরে আটকা পড়েছেন। এই ঘটনায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
দেশটির সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, স্থানীয় সময় ৪টা ২৭ মিনিটে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পে ‘কাশিমা’ জেলার একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে একটি এইওন শপিং মলও রয়েছে।
এনএইচকের ফুটেজে দেখা গেছে, প্রায় ২০০টি দোকান সম্বলিত মলটির এক পাশ বিধ্বস্ত হয়ে গেছে এবং বিশাল পার্কিং লট জুড়ে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়েছে। বাইরে বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স ও দমকলের গাড়ি পার্ক করা ছিল এবং উদ্ধারকারী দলগুলো জীবিতদের সন্ধান করছিল।

মল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এওন-এর একজন মুখপাত্র জানান, ভূমিকম্পের পরপরই হঠাৎ একটি বিস্ফোরণে কেঁপে ওঠে শপিং মলটি। এতে মলের দ্বিতীয় তলা ধসে পড়েছে। পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতেই মলে আসা ক্রেত্র ও কর্মচারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়াও আনেক ক্রেতাও আটকা পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত শপিংমল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে একটি পাবের এক কর্মচারি জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের কিছুক্ষণ পরিই মলের ভেতর থেকে তিনি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান।
তবে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি।
এরআগে জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানায়, কুমামোতো প্রিফেকচারের উপকূলসংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় স্থানীয় সময় ৪টা ২৭ মিনিটে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে, যার গভীরতা ছিল প্রায় ১০ কিলোমিটার।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিশ্চিত করেছেন, ভূমিকম্পের তীব্রতায় অঞ্চলটিতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন, একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং বেশ কিছু স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
টোকিওতে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমাদের ইতোমধ্যেই জানানো হয়েছে যে লোকজন আহত হয়েছে। কিছু এলাকায় ভবন ধসে পড়েছে এবং রাস্তাঘাট ও সেতুর ক্ষতি হয়েছে। হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা হচ্ছে।’
তবে এনএইচকে জানিয়েছে, স্থানীয় একটি হাসপাতালে ৫০ জনেরও বেশি আহত মানুষ ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এনএইচকের প্রচারিত ফুটেজে বেশকিছু ভবনে আগুন জ্বলতে এবং আংশিকভাবে ধসে পড়তে দেখা গেছে। কয়েকটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে আছে। এছাড়া অনেক জায়গার সড়কে ফাটল দেখা গেছে।

অন্যদিকে রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্র নিক্কেই জানিয়েছে, ভূমিকম্পের সময় একটি দ্রুতগতির বুলেট ট্রেনে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রীও আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যেই নিরাপত্তার স্বার্থে কিউশুতে সব ধরনের রেল যোগাযোগ স্থগিত করা হয়েছে। এ ছাড়াও কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়েতে ফাটল ধরার শঙ্কায় সেটিও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কুমামোতোতে প্রায় ৪৫ হাজার বাড়িঘর ও স্থাপনা সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ট্রান্সমিশন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডোকোমো এবং কেডিডিআই মোবাইল নেটওয়ার্ক সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় অঞ্চলে ১ মিটার (৩.২৮ ফুট) উচ্চতার সুনামি সতর্কতা জারি করেছিল জেএমএ। তবে ভূমিকম্পটি মূলত স্থলভাগের কাছাকাছি হওয়ায় বড় কোনো সুনামি ক্রিয়াকলাপ দেখা যায়নি এবং পরবর্তীতে এই সতর্কতা তুলে নেওয়া হয়। তবে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সম্ভাব্য শক্তিশালী ভূমিকম্পের জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেএমএ।
প্রসঙ্গত, পৃথিবীর যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি ভূমিকম্প অনুভূত হয় জাপানে। ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই দেশটিতে বেশি ভূমিকম্প হয়। দেশটিতে প্রতি বছর গড়ে দুই হাজারের মতো ভূমিকম্প সংঘটিত হয়ে থাকে। তবে ভূমিকম্পগুলোর অধিকাংশই ক্ষীণ হয়ে থাকে।
সূত্র: রয়টার্স, এনএইচকে
এমএইচআর