আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ জুলাই ২০২৬, ১০:০০ পিএম
অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোতে উৎপাদিত পণ্য আমদানির ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেলজিয়াম। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ব্যাপক বেসামরিক হতাহতের প্রতিক্রিয়া হিসেবে গত বছর বেলজিয়াম যে নীতিগত প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বাস্তবায়ন করা হলো।
শনিবার (১৮ জুলাই) গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে যাওয়ার আগে দেশটির ফেডারেল সরকারের শেষ মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বেলজিয়ামের সংবাদ সংস্থা বেলগা জানিয়েছে, এই সপ্তাহের শুরুতে বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভো ব্রাসেলসে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ইইউ প্রতিনিধিদের ওপর ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জোটব্যাপী নিষেধাজ্ঞার জন্য চাপ দেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের মধ্যে মতভেদের কারণে এখনও ইইউ স্তরে কোনো যৌথ সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে গত বছর সেপ্টেম্বরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নিতে শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় বেলজিয়াম সরকার আগেই বসতির পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে রাজনৈতিক জটিলতার কারণে এতদিন তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।
এই নিষেধাজ্ঞাটি মূলত অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে তৈরি পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর সমালোচনা অনুসারে, সিরিয়ার গোলান মালভূমিকে এর আওতাভুক্ত করা হয়নি। তবে নিষেধাজ্ঞাটি ঠিক কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং কোন কোন পণ্য এর আওতায় পড়বে সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
আয়ারল্যান্ড ও লুক্সেমবার্গের মতো কিছু দেশ বেলজিয়ামের এই পদক্ষেপকে সমর্থন করেছে। বেলজিয়াম আশা করছে, এই উদ্যোগের ফলে সামগ্রিকভাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) স্তরেও ইসরায়েলি বসতির পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির চাপ বাড়বে।
এর আগে স্পেন, নেদারল্যান্ডস, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ডও আলাদাভাবে ইসরায়েলি বসতির পণ্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
এদিকে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা বেলজিয়াম সরকারের এই সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে এবং এটিকে আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি প্রশংসনীয় অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে। তবে তারা সতর্ক করেছে, বেলজিয়াম সরাসরি আমদানি নিষিদ্ধ করলেও এই পণ্যগুলো অন্য কোনো ইউরোপীয় দেশের মাধ্যমে ‘পেছনের দরজা’ দিয়ে বা ভিন্ন লেবেল ব্যবহার করে দেশটির বাজারে প্রবেশ করার ঝুঁকি থেকে যায়।
প্রসঙ্গত, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ‘পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম’ এবং গোলান মালভূমির অবৈধ ইসরায়েলি বসতিগুলোতে বিপুল পরিমাণ কৃষি পণ্য, ওয়াইন এবং শিল্প সামগ্রী উৎপাদিত হয়। বিশেষ করে বিশ্বখ্যাত 'মাজরুল খেজুর' সবচেয়ে বেশি চাষ হয় এই অবৈধ বসতিগুলোতে। এগুলো ‘মেহাদরিন’ বা ‘হাদিকলাইম’ ব্র্যান্ডের অধীনে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হয়। এছাড়াও আঙুর, সাইট্রাস ফল, ডালিম, ডুমুর, অ্যাভোকাডো, তরমুজ, বিভিন্ন জাতের ক্যাপসিকাম, চেরি টমেটো, শসা, মিষ্টি আলু , পেঁয়াজ, পুদিনা পাতা, ধনেপাতা এবং তুলসীর ব্যাপক উৎপাদন হয়, যা মূলত ইউরোপের বাজারে রফতানি করা হয়।
ইইউ-এর বাণিজ্য সম্পর্কের তথ্যচিত্র অনুসারে, ২৭ দেশের জোটটি ইসরায়েলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার (মোট রফতানির প্রায় ৩০ শতাংশ)। গত বছর দেশটির মোট পণ্য বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ, যার পরিমাণ ছিল ৪৩ বিলিয়ন ইউরো (৪৯ বিলিয়ন ডলার), ইউরোপীয় ইউনিয়নের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়।
সূত্র: আলজাজিরা, টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর