অধিকৃত পশ্চিম তীরের একটি ফিলিস্তিনি গ্রামে মসজিদে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলায় একটি দুগ্ধ কারখানাসহ কয়েকটি স্থাপনাতেও আগুন দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে এএফপির একজন সাংবাদিক মসজিদের প্রবেশপথে আগুনে পোড়া চিহ্ন এবং দেয়ালে হিব্রু ভাষায় লেখা গ্রাফিতি দেখতে পান।
২০২৩ সালে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি জনগোষ্ঠীর ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সর্বশেষ এ হামলাটি ঘটে আল-তুওয়ানি (আল-তুওয়ানী) গ্রামে।
গ্রাম পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ রাবি জানান, রাতের অন্ধকারে মুখোশ পরা ব্যক্তিসহ ২০ জনের বেশি বসতিস্থাপনকারী আল-তাকওয়া মসজিদে হামলা চালিয়ে সেখানে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে তারা দুটি বাড়ি এবং একটি দুগ্ধ কারখানায়ও অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীরা মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় বিভিন্ন গ্রাফিতিও লিখে যায়।
তিনি বলেন, স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন, ফলে তা আরও ছড়িয়ে পড়েনি।
এএফপির তোলা ছবিতে দেখা যায়, একটি শিশু ও এক বৃদ্ধ মসজিদের আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবেশপথ ও জানালা পরিদর্শন করছেন। মসজিদের একটি নামাজের কার্পেটের অংশও আগুনে পুড়ে গেছে।
আরও পড়ুন: নেতানিয়াহুকে গ্রেফতারের চেষ্টা করবেন মামদানি
মোহাম্মদ রাবি জানান, মাসাফের ইয়াত্তা এলাকার নারীদের পরিচালিত দুগ্ধ কারখানাটি হামলায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, এই হামলায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।’
এদিকে ইসরায়েলি পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার রাতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে সদস্য পাঠায়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি যানবাহনে আগুন দেওয়া হয়েছে, একটি নামাজের স্থাপনার দরজা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেয়ালে গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা বলেন, মসজিদের খুব কাছেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একটি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার থাকা সত্ত্বেও তাদের সামনেই হামলাটি সংঘটিত হয়েছে।
তবে গ্রাম পরিষদের প্রধান মোহাম্মদ রাবির দাবি, হামলার প্রায় আধা ঘণ্টা পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে মসজিদ ও অন্যান্য স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি পরিদর্শন করেন।
ফিলিস্তিনের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা ঘটনাটিকে ‘পূর্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করেছে, ইসরায়েলের ‘চরমপন্থী দখলদার সরকার’ বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতাকে উৎসাহ দিচ্ছে। তাদের দাবি, মাসাফের ইয়াত্তা এলাকা থেকে ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ এবং সংঘাতকে ধর্মীয় রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের হামলা চালানো হচ্ছে।
সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (ওসিএইচএ) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের সহিংসতা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। বর্তমানে গড়ে প্রতিদিন ছয়টি হামলার ঘটনা ঘটছে, যাতে হতাহত হওয়ার পাশাপাশি সম্পদেরও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
পূর্ব জেরুজালেম বাদ দিলে, অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন। একই এলাকায় পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী বিভিন্ন বসতিতে বসবাস করছেন। আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে পশ্চিম তীর ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।
সূত্র: এএফপি/ফ্রান্স ২৪




