Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

মমতার তৃণমূলে ফের ভাঙন, এবার দল ছাড়লেন হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম

বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই একের পর নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে যোগ দিয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরে। এবার মমতার হাত ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, সাবেক পরিবন ও ক্রীড়া মন্ত্রী মদন মিত্র।

বুধবার বিধানসভায় রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে তার পাশে বসেই মমতার দেওয়া সব পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের ন্যাশনাল কমিটির চিফ হুইপ, ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য ছিলেন মদন। 

দলীয় সূত্রের খবর, হাজার কোটি রুপির চিটফান্ড এবং শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রের স্ত্রী, দুই পুত্র এবং পুত্রবধূকে তলব করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা- এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই আবহেই মঙ্গলবার রাতে মদন মিত্র সোজা হাজির হন এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক তথা ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম সদস্য সন্দীপন সাহার বাবা এবং সাবেক বিধায়ক স্বর্ণকমল সাহার বাড়িতে। সেখানে তাদের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক চলে। তারপরই জল্পনা ছড়ায় যে তিনি শিবির বদলাচ্ছেন। বুধবার সেই জল্পনার অবসান ঘটালেন মদন নিজেই।

পদত্যাগের পর বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে বসে তিনি বলেন, ‘তৃণমূলে ছিলাম, তৃণমূলেই রইলাম, শুধু এই ঘর থেকে ওই ঘরে গেলাম। ওই ঘরে হয়তো সুখের পালঙ্ক ছিল, এই ঘরে হয়তো খাটিয়া রয়েছে; আমি খাটিয়াকেই বেছে নিলাম।’

শিবির বদলের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গ মদন প্রত্যক্ষভাবে তৃণমূলের নির্বাচনি পরামর্শ সংস্থা- আইপ্যাক এবং পরোক্ষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন।

তিনি বলেন, ‘অভিষেক আর যাই হোক তৃণমূলের মুখ নয়। আর আইপ্যাক খায় না মাথায় দেয়, সেটাও বোঝা যায়নি। জটিল ব্যাপার ছিল একটা। যে দল ২১৩ আসন পেয়েছিল, একটা লোকের (অভিষেক) জন্য সেটা শেষ হয়ে গেল!’

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ওঠে যে, দলের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ থেকে তিনি দল ছেড়েছেন। 

তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ফেসবুক লাইভে দাবি করেন, ইডির চাপের কারণেই মদন মিত্র দল ছেড়েছেন এবং এর পেছনে অভিষেকের কোনো ভূমিকা নেই।

প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের ভরাডুবির পর থেকেই কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। মমতার হাত ছেড়ে উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে একে একে যোগ দিতে শুরু করেন দলের বহু হেভিওয়েট নেতা। এমনকি, দীর্ঘদিন ধরে যারা মমতার রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘনিষ্ঠ সাক্ষী ও ভরসাযোগ্য ছিলেন— সেই ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, ও অনুব্রত মণ্ডলের মতো শীর্ষ নেতারাও দলনেত্রীর সঙ্গ ত্যাগ করেন।

এই দলবদলের ঝড়েও মদন মিত্র এতদিন নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তবে ইডির নোটিসের পর মদন মিত্রের এই পদক্ষেপ মমতা এবং তার দলের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সূত্র: আনন্দবাজার, দ্য ওয়াল


এমএইচআর