images

আন্তর্জাতিক

কোভিড নিয়ে গোপন তথ্য ‘ফাঁস’ করে গেলেন মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

চীনের উহানের যে পরীক্ষাগার থেকে করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছিল বলে মনে করা হয়, সেখানে টাকা ঢেলেছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফাউচি। 

নথি প্রকাশ করে এমনটাই দাবি করেছেন আমেরিকার ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ডিএনআই) তুলসী গাব্বার্ড। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডিএনআই পদে তার শেষ দিন ছিল। 

পদ ছাড়ার আগে কিছু বিস্ফোরক নথি তিনি প্রকাশ করেছেন। এই নথি আগে কখনও প্রকাশ্যে আসেনি। সেখানেই ফাউচির কীর্তির সপক্ষে প্রমাণ রয়েছে।

২০২০ সালের প্রথম দিকে যখন আমেরিকায় কোভিড ছড়াতে শুরু করল, বাইডেন প্রশাসন তার মোকাবিলায় বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। সেই প্রক্রিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন ফাউচি। 

অভিযোগ উঠে, উহানের ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি-তে (ডব্লিউআইভি) বাদুড়দের করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত পরীক্ষার জন্য টাকা দিয়েছিলেন তিনি। এমনকি, সেখান থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি তিনি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাও করেন বলে দাবি করেছে তুলসীর দফতর। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘কোভিড-১৯ নিয়ে গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানকে প্রভাবিত এবং ভুল পথে চালিত করা হয়েছিল। এই নথি থেকেই বোঝা যাচ্ছে, ফাউচি তার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালে কংগ্রেসের সামনেও তিনি মিথ্যা বলেছেন। এ বিষয়ে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন।’

অ্যান্থনি ফাউচি আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশিয়াস ডিজিজ-এর (এনআইএআইডি) প্রধান ছিলেন টানা ৩৮ বছর। 

অভিযোগ উঠেছে, কোভিড সংক্রান্ত ষড়যন্ত্রের নেপথ্যে মূল মাথা হিসাবে কাজ করেছিলেন ফাউচি। নিজের বাছাই করা বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। কোভিড মহামারীর সূচনা হিসাবে প্রাকৃতিক বা প্রাণিজ উৎসের তত্ত্ব মেনে নিতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলিকে বাধ্য করেছিলেন। 

নিজের বিপজ্জনক ও ঝুঁকিপূর্ণ গবেষণার কথা আড়াল করতেই তিনি এই কাজ করেছিলেন বলে দাবি করেছেন তুলসী। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একটি ‘প্রতারণামূলক গবেষণাপত্র’কে গোয়েন্দাদের বিবেচনার জন্য নির্ভরযোগ্য হিসাবে তুলে ধরেছিলেন ফাউচি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের গোয়েন্দাপ্রধানের পদ থেকে গত মাসেই ইস্তফা দিয়েছেন তুলসী। দফতর ছাড়ার আগে তিনি ফাউচির বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি প্রকাশ্যে আনলেন। 

বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘কোভিড মহামারী আমেরিকা এবং সারা বিশ্বের বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। এত বছরের এত মিথ্যার পর স্বচ্ছতা, সত্য এবং দায়বদ্ধতা প্রাপ্য আমেরিকানদের। 

ফাউচি নিজের অপকর্মকে ধামাচাপা দেওয়ার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। দেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য যা করণীয়, তা তিনি করেননি।

২০২৪ সালে মার্কিন কংগ্রেসে এই সংক্রান্ত শুনানিতে ফাউচিকে বার বার প্রশ্ন করা হয়েছিল, এফবিআই, সিআইএ-র মতো সংস্থার সঙ্গে তিনি ভাইরাসের পরীক্ষার বিষয়ে আলোচনা করেছেন কি না। বার বার তিনি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়েছেন। 

যারা এ বিষয়ে মুখ খুলতে চেয়েছেন, তাদের নানা ভাবে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তুলসীর এই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে ফাউচি নিজে এখনও কোনও মন্তব্য করেননি।

-এমএমএস