শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ঢাকা

‘আমার সঙ্গে ছবি তোলার বায়না ধরেন মেলোনি’! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:০৩ এএম

শেয়ার করুন:

‘আমার সঙ্গে ছবি তোলার বায়না ধরেন মেলোনি’! 

ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে না-কি ছবি তুলতে বায়না ধরেছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি!

এমনটাই দাবি করলেন ট্রাম্প। তার এই দাবি প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল শুরু হয়েছে। সত্যিই কি মেলোনির তরফে এমন কোনও আবদার গিয়েছিল ট্রাম্পের কাছে? 


বিজ্ঞাপন


শোরগোল শুরু হতেই তার অবসান ঘটালেন খোদ ইতালির প্রধানমন্ত্রীই। ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করে মেলোনি জানালেন, সব মনগড়া কথা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

আলোচনার সূত্রপাত ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে। ইতালির এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বলেছিলেন। ইতালির প্রধানমন্ত্রী যাতে ‘দুঃখবোধ’ না-করেন সেই কারণেই ছবি তুলতে রাজি হয়েছিলেন।

পশ্চিম এশিয়ায় আমেরিকার আগ্রাসী নীতির তীব্র সমালোচনা করেছিল ইউরোপের একাধিক দেশ। সেই তালিকায় ছিল ইতালিও। হরমুজ খোলার বিষয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্প তাদের সাহায্য চেয়েছিলেন। 

কিন্তু ইউরোপের বেশির ভাগ শক্তিধর দেশই পিছিয়ে গিয়েছিল। ট্রাম্পও প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন বার বার। রাশিয়া এবং ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধে আমেরিকার নীতি নিয়েও ইউরোপে ক্ষোভ ছিল। 


বিজ্ঞাপন


ইউরোপের অন্য দেশের মতো ইতালি-আমেরিকা সম্পর্কের টানাপড়েনও খবরের শিরোনামে ছিল। সেই আবহে জি৭ সম্মেলনে ছবি তোলার জন্য মেলোনির ‘অনুরোধ’, আর তাতে ট্রাম্পের ‘রাজি’ হওয়া— নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার (মেলোনি) সঙ্গে কথা বলায় সম্ভবত তিনি বেশ খুশি হয়েছেন। আমার তার সঙ্গে কথা বলার কোনও প্রয়োজন ছিল না। 

কিন্তু তিনি আমার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য বায়না ধরেছিলেন। আমার সঙ্গে ছবি তুলতে মরিয়া ছিলেন। আমি হয়তো ছবি তুলতাম না, কিন্তু তার জন্য আমার খারাপ লেগেছিল। তাই ছবি তুলি।’

ট্রাম্পের এই দাবি ইতালি তো বটেই, বিশ্ব রাজনৈতিক মহলে বিতর্কের জন্ম দেয়। সেই বিষয় বেশি দূর এগোনোর আগে মেলোনি এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও পোস্ট করে ট্রাম্পের দাবি নস্যাৎ করেন। 

তার কথায়, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া, বানানো। আমি শুনে হতবাক। আমি জানি না কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নিজের বন্ধুদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন! এমন ঘটনা প্রথম নয়।’

ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি শুধু এইটুকু বলতে চাই, — আমি বা ইতালি কখনও ভিক্ষা করি না, কারও দয়া চাই না।’

ট্রাম্পের মন্তব্য ইতালিতে নিন্দার ঝড় বইছে। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি তার আসন্ন মার্কিন সফর বাতিল করেছেন। ইতালির অন্য নেতামন্ত্রীদের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট কখনওই ভালো কিছু কল্পনা করতে পারেন না।

মেলোনির সঙ্গে ট্রাম্পের ‘সম্পর্ক’ এক সময় আলোচিত ছিল। ২০২৫ সালে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেওয়ার অনুষ্ঠানে একমাত্র ইউরোপীও প্রতিনিধি ছিলেন মেলোনি।

তবে পোপ লিও-র বিরুদ্ধে ট্রাম্পের মন্তব্যের কারণে দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সেই সমীকরণ আরও তলানিতে পৌঁছে যায়।

-এমএমএস

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর