Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

দেশ পুনর্গঠনে ৩০ হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৭ জুন ২০২৬, ১১:২২ এএম

যুদ্ধপরবর্তী ইরানের পুনর্গঠনের জন্য ৩০ হাজার কোটি ডলারের একটি তহবিল তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে এ তহবিলের অর্ধেকেরও বেশি অর্থ অর্থাৎ ১৫ হাজারেরও বেশি ডলার জোগাড়ও হয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী একাধিক সূত্র ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডের রাজধানী জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ‘ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং নামের যে ১৪ পয়েন্টের সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের কথা আছে, সেখানের একটি পয়েন্ট হলো এই তহবিল গঠন। 

এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য ইরানকে অনুপ্রাণিত করা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন ডিজিটাল মাধ্যমে ইতোমধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর করে ফেলেছে ওয়াশিংটন এবং তেহরান। ১৯ জুন জেনেভায় যা হবে— সেটি আনুষ্ঠানিকতা।

‘রিকনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ডেভেলেপমেন্ট’ নামের এ তহবিলে এ পর্যন্ত যত অর্থ এসেছে এবং ভবিষ্যতে যে অর্থ আসবে তার পুরোটাই আসবে বেসকরকারি খাত থেকে। এ তহবিলের সঙ্গে সরকারি অর্থের কোনো যোগ থাকবে না।

তহবিলের অর্থ বিনিয়োগ করা হবে ইরানের জ্বালানি, লজিস্টিকস, পণ্যপ্রস্তুত বা ম্যানুফ্যাকচারিং এবং যাতায়াত ও পরিবহন খাতে। যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চল, এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকাভিত্তিক বেশ কয়েকটি কোম্পানি ইরানের পুনর্গঠনে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে; বেশ কয়েকটি কোম্পানি তহবিলে অর্থও প্রদান করেছে।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেছেন, তেহরান প্রাথমিকভাবে যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য ওয়াশিংটনের কাছে ৪০০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। 

পরে পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তার জন্য একটি বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে এই বিনিয়োগ তহবিলটি চালু হয়।

অবশ্য এই তহবিলের বাইরে আঞ্চলিক দেশগুলো সরকারিভাবে ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প কারখানা, তেল শোধনাগার, বিমানবন্দর ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনঃনির্মাণ খাতে ঋণ, ক্রেডিট সুবিধা এবং সরাসরি অর্থায়নের মাধ্যমে অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিংয়ের শর্ত অনুযায়ী, এই সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য ৬০ দিন সময় পাবে তেহরান ও ওয়াশিংটন।

-এমএমএস