images

আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম বাংলাদেশিদের পুশইন, বাড়ছে ধর্মীয় উত্তেজনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১০ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ পিএম

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক হারে মুসলিম বাংলাদেশিদের পুশইন বা বিতাড়নের ঘটনা ঘটছে, যা দুই দেশের সীমান্ত জুড়ে গভীর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। 

মাত্র এক মাস আগেই পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবারের মতো বিপুল ভোটে ক্ষমতায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হিন্দুবাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। মূখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধীকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকারের চালু করা “শনাক্ত করো, নির্মূল করো এবং নির্বাসন” নীতির অংশ হিসেবে নথিপত্রহীন মুসলিমদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে পুশইন ব্যাপক হারে বেড়েছে। 

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ৪,০৯৬ কিলোমিটার (২,৫৪০ মাইল) দীর্ঘ একটি স্থল সীমান্ত রয়েছে, যা বিশ্বের পঞ্চম দীর্ঘতম। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক যোগসূত্র রয়েছে। এই যোগসূত্রের মধ্যে রয়েছে সীমান্তের উভয় পাশে লক্ষ লক্ষ মুসলিম ও হিন্দু বাসিন্দাদের ব্যবহৃত একটি অভিন্ন ভাষা (বাংলা)। অন্যদিকে এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে দরিদ্র শ্রমিকদের বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত ও বসতি স্থাপনের ইতিহাস রয়েছে। 

কিন্তু প্রায় ১০ কোটি মানুষের আবাসস্থল পশ্চিমবঙ্গে বিপুল বিজয়ের পর, রাজ্যের বিজেপি সরকার নথিপত্রহীন মুসলিম অভিবাসীদের খুঁজে বের করতে কঠোর অভিযানের নির্দেশ দিয়েছে এবং একই সাথে তাদের আটক করে অবশেষে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ‘হোল্ডিং সেন্টার’ নির্মাণের ঘোষণাও দিয়েছে।

এই অভিযানটি শুধু বাংলাদেশি অভিবাসীদের মধ্যেই নয়, পশ্চিমবঙ্গের ভারতীয় মুসলমানদের একাংশের মধ্যেও এই আশঙ্কা জাগিয়েছে যে, তারাও এমন একটি অভিযানের শিকার হতে পারেন, যে অভিযানটি তার লক্ষ্যবস্তুদের আইনি মর্যাদার পাশাপাশি তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের পরিচয়ের ভিত্তিতেও সমানভাবে পরিচালিত বলে সরকার স্পষ্ট করে দিয়েছে।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি পশ্চিমবঙ্গের প্রতিবেশী রাজ্য আসামে— মোদির বিজেপি শাসিত— ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো কয়েক ডজন ভারতীয় মুসলমানকে অবৈধ অভিবাসীর অভিযোগে জোরপূর্বক সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। তবে বাংলাদেশও তাদের ফেরত পাঠিয়ে দেয়, ফলে তারা সাময়িকভাবে এক নো-ম্যান'স ল্যান্ডে আটকা পড়ে। অবশেষে তাদের ভারতে পুনরায় প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়— কিন্তু তাদের ওপর চালানো এই দুর্ভোগের জন্য তারা ন্যায়বিচার তো দূরের কথা, কোনো ব্যাখ্যাও পায়নি।

এখন, এক বছর পর পশ্চিমবঙ্গেও একই ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা বাড়ছে।

উন্নত জীবনযাত্রার সন্ধান

ভারতের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী গ্রাম হাকিমপুরের একটি চেকপয়েন্টে প্রখর রোদ ও তীব্র আর্দ্রতার মাঝে শত শত মানুষের ভিড় দেখা গেছে। সেখানে কাঁচা ইট ও সিমেন্টের তৈরি একটি সংকীর্ণ অসম্পূর্ণ ভবনে পানীয় জলের অভাবে চরম দুর্ভোগের মধ্যে অপেক্ষা করছেন বহু মুসলিম অভিবাসী, যাদের ‘অবৈধ অনুপ্রবেশকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্তে আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের সাতক্ষীরা জেলার বাসিন্দা ৩৮ বছর বয়সী রাইসুল ইসলামও রয়েছেন। তিনি তার স্ত্রী রেবেকা খাতুন (৩৬) এবং তাদের দুই ছেলে রিয়াদ (১৪) ও জুবায়ের (১৬) নিয়ে ওই ভবনে অপেক্ষা করছেন। 

image

রাইসুল জানান, তার স্ত্রী চর্মরোগে ভুগছিলেন, তার চিকিৎসার জন্য আমরা দুই বছর আগে দালারের মাধ্যমে ভারতে গিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের তুলনায় সেখানে ভালো বেতন পাওয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাসের সিদ্ধান্ত নেন। 

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, তিনি ও তার পরিবারের জন্য সীমান্ত পার হওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া এক দালালকে তিনি প্রায় ২৫০০০ হাজার দিয়েছিলেন, যা তার জন্য একটি বড় অঙ্কের টাকা। তারা রাজ্যের রাজধানী কলকাতায় এসে শহরের উপকণ্ঠে একটি ঘর ভাড়া নেন। এই দম্পতি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং দুজনে মিলে দিনে প্রায় ১০০০ রুপি আয় করতেন।

কিন্তু গত মাসের শেষের দিকে তাদের জীবন বদলে যায়, যখন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নথিপত্রহীন বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

যদিও বিজেপি ভারতের আরও কয়েকটি রাজ্যে এমন অভিযান চালিয়েছে। তবে শুভেন্দু অধিকারীর হুমকির সাথে একটি শর্তও ছিল: এই উচ্ছেদ অভিযান শুধুমাত্র মুসলিম বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে চালানো হবে এবং একটি বিতর্কিত সাংবিধানিক সংশোধনের (সিএএ) অধীনে হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মের অভিবাসীরা এর আওতামুক্ত থাকবেন। 

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আটককৃতদের নির্বাসনে পাঠানোর আগে কর্তৃপক্ষ তাদের আদালতে তোলার প্রয়োজন মনে করবে না। কারণ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছিল যে, ভারতীয় সংবিধানের অধীনে বিদেশি নাগরিকদের প্রায় কোনো অধিকারই নেই। ফলস্বরূপ, শ্চিমবঙ্গ সরকারের এই নীতি অনুযায়ী, যাদের নির্বাসনে পাঠানো হবে, তাদেরই প্রমাণ করতে হবে কেন তাদের বাংলাদেশে পাঠানো উচিত নয়।

এদিকে গত দুই সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে হাজার হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী তাদের হয় আটক কেন্দ্রে পাঠিয়েছে অথবা বাংলাদেশে ‘ঠেলে ফেরত পাঠানোর’ জন্য সীমান্তে নিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে রাইসুল ইসলাম জানান, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাকে ও তার পরিবারকে খুঁজে বের করার জন্য তিনি অপেক্ষা করেননি।

তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এখানে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসী হওয়ায় স্থানীয় ও পুলিশের হয়রানির ভয়ে আমরা স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

হাকিমপুর সীমান্ত চৌকিতে জড়ো হওয়া আরও বেশ কয়েকজন অভিবাসী বাংলাদেশে তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশার একই ধরনের কাহিনী বর্ণনা করেছেন, যা তাদের দালাল ভাড়া করে সীমান্ত পার হতে বাধ্য করেছে – যাদের অনেকের কাছেই কোনো বৈধ কাগজপত্র ছিল না।

৪২ বছর বয়সী মিরাজুল গাজী আল জাজিরাকে জানান, উন্নত সুযোগের সন্ধানে তিনি পাঁচ বছর আগে তার স্ত্রী ৩৬ বছর বয়সী সাবিনা ইয়াসমিন ও ১৮ বছর বয়সী ছেলে নাইমকে সঙ্গে নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এই দম্পতি কলকাতায় নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং দিনে প্রায় ১২০০ রুপি আয় করতেন, কিন্তু বিজেপি সরকারের দমনপীড়ন তাদের দেশে ফিরতে বাধ্য করে।

মিরাজুল বলেন, ‘গত পাঁচ বছর ধরে আমাদের কোনো সমস্যা হয়নি, কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাড়িওয়ালা আমাদের জায়গাটি খালি করে দিতে বলেন। স্থানীয়দের হামলার ভয়ে আমরা ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ 

কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার (৫০ মাইল) দূরে অবস্থিত হাকিমপুরসহ পশ্চিমবঙ্গের অন্যান্য সীমান্ত চৌকিগুলোতে মে মাসের শেষভাগ থেকে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশি অভিবাসীদের আগমন ঘটছে।

হাকিমপুরে কর্মরত একজন পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে আল জাজিরাকে জানান, প্রতিদিন প্রায় ২৫০-৩০০ জন নথিবিহীন শরণার্থী ও অভিবাসী চেকপয়েন্টটিতে আসছেন, যেখানে কর্তৃপক্ষ তাদের নাগরিকত্ব যাচাই করার পাশাপাশি অভিবাসীদের সংখ্যার একটি ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির জন্য তাদের বায়োমেট্রিক তথ্যও নথিভুক্ত করছে।

এদিকে গত রোববার কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী অধিকারী দাবি করেন, ইতোমধ্যেই প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং তার সরকার রাজ্যের সব জেলায় আটক কেন্দ্রও স্থাপন করেছে।

তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত ৪,৮০০ জন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আরও ৮৩৬ জন বর্তমানে আটক কেন্দ্রগুলোতে রয়েছে… আমরা শিগগিরই এই ৮৩৬ জনকে বহিষ্কারের ব্যবস্থা করছি।”

ঢাকা-দিল্লির কূটনীতিক টানাপোড়ন

২০২৪ সালে বাংলাদেশে যুব নেতৃত্বে একটি বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতের ঘনিষ্ঠ মিত্র তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘ ও স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটে, যা নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে সুদৃঢ় সম্পর্কে একটি ধাক্কা দেয়। অভ্যুত্থানের মুখে হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফেরত চাওয়া হলেও ভারত বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। এর মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে অভিবাসী-বিরোধী অভিযান দেশ দুটির মধ্যে নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।

সোমবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা শামা ওবাইদ জানান, পুশ ইন ঠেকাতে ভারতের কাছে ১২-১৩টি চিঠি পাঠানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য একটি নির্ধারিত প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করা উচিত।

অন্যদিকে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) বলছে, ৪ জুন থেকে প্রায় ১৮০ জন অভিবাসীকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইনের জন্য ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অন্তত ১৮টি প্রচেষ্টা তারা ব্যর্থ করে দিয়েছে। 

আর বাংলাদেশি অভিবাসীদের ‘অবৈধভাবে জোর করে পুশ-ইনের’ বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে ঢাকার করা পূর্ববর্তী সমালোচনার জবাবে, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারতে অবৈধভাবে অবস্থানকারী সব বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য বহু তথ্য বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। যাচাই সম্পন্ন হলেই বহিষ্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।

এদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো ভারতের এই পদক্ষেপকে “সম্পূর্ণ অনৈতিক” বলে আখ্যা দিয়েছে।

বিশোর অন্যতম মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক এলেইন পিয়ারসন বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।

এই নির্বাসনকে ‘অবৈধ’ আখ্যা ‍দিয়ে তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই, সেইসব আটককৃতদেরও আইনি প্রতিনিধিত্বের সুযোগ দেওয়া উচিত, যাতে কোনো ভারতীয় নাগরিককে অন্যায়ভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা না হয় দেন।’

নির্বাসন ধর্মীয় উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে

প্রধানত মুসলিম বাংলাদেশী অভিবাসীদের নির্বাসন পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় উত্তেজনাকেও উস্কে দিচ্ছে, যা বিজেপির ক্ষমতায় আসার পর এমন একটি রাজ্যে বিস্ফোরিত হয়েছিল যেখানে জনসংখ্যার ২৭ শতাংশ মুসলিম।

কয়েক দশক ধরে বিজেপি বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে আসছে। এমনকি মোদির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আসামের এক নির্বাচনী সমাবেশে তাদের ‘উইপোকা’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। আসামও বিজেপি-শাসিত আরেকটি সীমান্ত রাজ্য, যেখানে লক্ষ লক্ষ বাঙালি বংশোদ্ভূত মুসলমান বাস করেন এবং একই ধরনের দমনপীড়নের শিকার হয়েছেন।

যদিও ভারতে তিব্বত থেকে আসা হাজার হাজার বৌদ্ধ শরণার্থী এবং শ্রীলঙ্কা থেকে আসা তামিল শরণার্থী রয়েছে। তবে বিজেপি ধারাবাহিকভাবে মুসলিম অভিবাসীদের— অর্থাৎ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের তাদের ধর্মের কারণে আলাদা করে চিহ্নিত করে আসছে। 

২০১৭ সালে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যা থেকে বাঁচতে ৭ লক্ষেরও বেশি রোহিঙ্গা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম, দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসে। এদের মধ্যে সিংহভাগই বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় এবং অল্প কিছু সংখ্যক মানুষ নয়াদিল্লিসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে আশ্রয় নেয়।

মানবাধিকার কর্মীরা বলেছেন, বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসীদের ওপর বিজেপির এই নিপীড়ন, সাংবিধানিকভাবে ধর্মনিরপেক্ষ একটি দেশকে জাতিগত হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে দেশটির ২০ কোটি মুসলমানকে প্রান্তিকীকরণ ও নিপীড়নের বৃহত্তর নীতিরই অংশ।

অধিকারকর্মী তিস্তা সেতলভাদ বলেছেন, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ‘শুধুমাত্র পূর্বপরিকল্পিত এজেন্ডা ও বাগাড়ম্বরের ভিত্তিতে কাজ করছে’।

তিনি অভিযোগ করেন, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সময় বিজেপি সরকার তার নিজের নির্দেশিকা অনুসরণ করছে না।

তিস্তা আল জাজিরাকে বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে, পুলিশ যথেচ্ছভাবে লোকজনকে ধরে ডিটেনশন সেন্টারে রাখছে এবং পণ্যের মতো তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছে। আমরা আশঙ্কা করছি যে, এই আটক কেন্দ্রগুলোতে ব্যক্তিদের অবৈধভাবে আটক রাখা হবে।’ 

তিনি বিজেপি সরকারের কাছে অবিলম্বে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে থাকা নথিবিহীন অভিবাসীদের এবং বাংলাদেশে ‘ঠেলে দেওয়া’ ব্যক্তিদের তথ্য প্রকাশের দাবি জানান।

সূত্র: আলজাজিরা

এমএইচআর