images

আন্তর্জাতিক

ইরান ‘শক্তিশালী ও গর্বিত’ বলেই এখনো কোনো চুক্তিতে সম্মত হয়নি: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ এএম

ইরান ‘শক্তিশালী ও গর্বিত’ বলেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার কোনো চুক্তিতে এখনো সম্মত হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, তেহরান এখনো শক্ত অবস্থান নিলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তব পরিস্থিতি তাদের আলোচনার টেবিলে ফিরতে বাধ্য করবে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের মধ্যে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। গত সপ্তাহে এই যুদ্ধ চতুর্থ মাসে প্রবেশ করেছে।

শুক্রবার ধারণ করা সাক্ষাৎকারটির একটি অংশ প্রকাশ করেছে এনবিসি। পুরো সাক্ষাৎকার সম্প্রচার হওয়ার কথা আগামী রোববার। সাক্ষাৎকারটি নেন উপস্থাপক ক্রিস্টেন ওয়েলকার।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের নেতারা এখনো কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেননি, কারণ তারা ‘শক্তিশালী’ এবং ‘গর্বিত’। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের চুক্তিতে আসা ছাড়া ‘আর কোনো উপায় নেই’।

‘এমন অনেক কিছু আছে যা তারা কখনো ভাবেনি যে তাদের করতে হবে, কিন্তু এখন তা করতে হবে। তাদের আর কোনো উপায় নেই-এবং এতে কিছুটা সময় লাগে।’

দুই দেশ এপ্রিল মাসে একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, যা কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পাল্টাপাল্টি হামলা চালানোয় উত্তেজনা আবারো বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বুধবার কংগ্রেসের হাউস সদস্যদের জানান, ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শেষ হয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, সপ্তাহের শুরুতে চালানো হামলাগুলো ছিল ‘প্রতিরক্ষামূলক’, এবং এগুলো হরমুজ প্রণালির কাছে মার্কিন জাহাজে ইরানের হামলার প্রতিক্রিয়ায় করা হয়েছে।

রুবিও বলেন, ‘আমাদের বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে আমরা শুধু ড্রোন নয়, যারা ড্রোন ছোড়ে তাদের ওপরও হামলা করি। এগুলো সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক, তবে ইরানের কর্মকাণ্ডের জবাবে করা হয়েছে। তারা যদি জাহাজে গুলি না চালায়, আমরাও হামলা করি না—কিন্তু আমাদের প্রতিক্রিয়া জানাতেই হয়।’

trump-4সংঘাতের মধ্যে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় ইরান। ফলে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসের দামও বৃদ্ধি পায়। এতে ট্রাম্প ও রিপাবলিকান নেতৃত্বের ওপর অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়।

শুক্রবারের সাক্ষাৎকারে যারা দ্রুত ইরানের সঙ্গে চুক্তির আহ্বান জানাচ্ছেন, তাদের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, ‘এ ধরনের বিষয় সমাধান করতে বছর লাগে।’

ইরানি নেতৃত্বকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘এই লোকেরা ৪৭ বছর ধরে যুদ্ধ করছে। তারা আমেরিকানদের হত্যা করেছে। তারা মানুষের হাত-পা উড়িয়ে দিয়েছে, মুখমণ্ডল এতটাই ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে যে তা কল্পনাও করা যায় না।’

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খুব দ্রুত এগোচ্ছি। আমি মাত্র তিন মাসে আছি। ভিয়েতনাম ১৯ বছর চলেছে। আমি এখন তৃতীয় মাসে। আর সবাই শুধু বলে, ‘কবে জিতবেন?’ যদি আমি ডেমোক্র্যাট হতাম, কেউ এভাবে বলত না। তবে তাতে কিছু যায় আসে না, আমি এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে স্বীকার করেন, ইরানের কাছে এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন রয়েছে।

ট্রাম্প বলেন, ‘ড্রোন তৈরির বেশিরভাগ কারখানা ধ্বংস করা হয়েছে, বেশিরভাগ লঞ্চিং প্যাডও ধ্বংস করা হয়েছে, এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের কিছু সক্ষমতা এখনো আছে। তাদের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিছু ড্রোন আছে।’

এদিকে ইরান এখনো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তার সক্ষমতার প্রমাণ দিচ্ছে। চলতি সপ্তাহে পারস্য উপসাগরজুড়ে একাধিক হামলা চালানো হয়েছে, যার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও আঘাত হানা হয়েছে। সূত্র: এনবিসি নিউজ।

এমআর