আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬, ০৫:২৯ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা কম, তবে ইরান যেকোনো আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) একজন কর্মকর্তা।
বুধবার ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে আইআরজিসির নৌবাহিনীর উপ-রাজনৈতিক প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ বলেন, ‘শত্রুর (যুক্তরাষ্ট্র) দুর্বলতার কারণে যুদ্ধের সম্ভাবনা কম, তবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী অস্ত্রাগার পূর্ণ করে ওত পেতে আছে।’
তিনি ইরানের দীর্ঘ দক্ষিণ উপকূলের দুই প্রান্তের স্থানগুলোর নাম উল্লেখ করে আরও বলেন, ‘এতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা চাবাহার থেকে মাহশাহর পর্যন্ত এলাকাকে আগ্রাসনকারীদের কবরস্থানে পরিণত করব।’
মূলত, যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনার মধ্যেই ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি। শান্তি আলোচনার মধ্যে দক্ষিণ ইরানে নতুন করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ও আইআরজিসির নৌযান। হরমুজ প্রণালিতে মাইন পেতে রাখার অভিযোগ তুলে এই হামলাকে ‘আত্মরক্ষামূলক’ বলছে ওয়াশিংটন।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানও হামলা চালিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ভূপাতিত ছাড়াও আরও একটি মার্কিন আরকিউ-৪ ড্রোন এবং একটি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের ওপরও গুলি চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। এমন অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে- তাহলে কি নতুন করে বড় যুদ্ধে জড়াতে যাচ্ছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র?
সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এবং সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালানোর কথা বিবেচনা করছে, এরই অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওয়াশিংটনে থাকার জন্য তার সাপ্তাহিক কর্মসূচি পরিবর্তন করেছেন।
অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাত সম্পর্কিত ঘটনাবলি নিয়ে আলোচনা করতে ট্রাম্প শুক্রবার সকালে তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের ডেকেছিলেন।
আরও কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকের পরই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যর ছুটি বাতিল করা হয়েছে, যা পুনরায় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
সূত্র: ডন, আলজাজিরা
এমএইআর