images

আন্তর্জাতিক

ইরানের ক্ষমতার ভরকেন্দ্রে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

২২ মে ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর তেহরানের শীর্ষ ক্ষমতায় শূন্যতা তৈরি হলে তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে উত্তরসূরি হিসেবে সামনে আনা হয়। কিন্তু ৫৬ বছর বয়সী এই ধর্মীয় নেতা ৩৭ বছর ধরে ইরান শাসন করা তার বাবার মতো শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন না। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মোজতবা খামেনি আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বে থাকলেও বাস্তবে তিনি এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেন না। বরং বর্তমানে দেশটির উচ্চ পদে থাকা একটি ছোট ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী ইরানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে পরিচালনা করছে, যাদের বেশিরভাগই দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআজিসি) বর্তমান ও সাবেক সিনিয়র কমান্ডার।

নিউইয়র্ক টাইমস এ গোষ্ঠীকে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’ আখ্যা দিয়েছে। এদের অনেকেই ১৯৮০ সালে শুরু হওয়া ইরান–ইরাক যুদ্ধের সময় সামরিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং খুব অল্প বয়সেই জেনারেল পদে উন্নীত হন। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তারা ধীরে ধীরে ইরানের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই প্রভাবশালী কমান্ডারদের অনেকের সঙ্গে মোজতবা খামেনির ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, যা গড়ে উঠেছিল তার পিতার অফিসে কাজ করার সময় থেকে। এখন এই নেটওয়ার্কই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গোষ্ঠীর অভিন্ন সামরিক পটভূমি, কঠোর নিরাপত্তা দৃষ্টিভঙ্গি এবং আদর্শিক অবস্থান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় প্রায় ৫০ জন শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতার মৃত্যুর পর তেহরানের ক্ষমতার কাঠামোকে ভেঙে পড়তে দেয়নি। বরং তেহরানের নীতি আগের চেয়ে আরও বেশি অনমনীয় ও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাঈদ গোলকার বলেন, এই নেতারা কীভাবে কাজ করেন এবং ক্ষমতা ভাগাভাগি করেন, তা অনেকাংশেই অস্পষ্ট। কেউ কেউ যুদ্ধ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে ছিলেন এবং এখন লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ভয়ে লুকিয়ে থাকেন। কিন্তু এখন, তারা একত্রিত হয়ে ইরানকে স্থিতিশীলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করছেন।

তিনি আরও বলেন, তাদের কাছে তথ্য ও গোয়েন্দা খবর ছিল; দেশটির শাসন ব্যবস্থাটি কীভাবে কাজ করে, বিরোধী দল, সংস্কারপন্থী, এমনকি তারা একে অপরের ওপর নজরদারি করে, নিয়ন্ত্রণ করে ও গুপ্তচরবৃত্তি করে। আর এই গোয়েন্দা তথ্যের ওপর এই আধিপত্যের কারণে তারা ক্রমান্বয়ে ইরানের রাজনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।

প্রতিবেদনে ‘ব্যান্ড অব ব্রাদার্স’-এর মূল স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছেন এমন কয়েক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। এর মধ্যে রয়েছেন, ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদর, আইআরজিসির কমান্ডার আহমাদ ভাহিদি, আইআরজিসির সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলি জাফারি, বর্তমান প্রধান বিচারপতি মোহসেনি-এজেই এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান হোসেইন তাইয়েব। 

সূত্র: এনডিটিভি

এমএইআর