যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির সুযোগে ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করছে ইরান।
মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বৃহস্পতিবার (২১ মে) এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ধারণা ছিল, মার্কিন-ইসলায়েলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা আগের অবস্থায় ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগবে। কিন্তু তেহরানের পুনর্গঠনের গতি মার্কিন গোয়েন্দাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত এগোচ্ছে, যা তাদের অবাক করেছে।
নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন অনুযায়ী, মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মিসাইল লঞ্চার এবং ৫০ শতাংশ ড্রোন সক্ষমতা সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। যুদ্ধবিরতির সুযোগে তারা মাটির নিচে বা ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা লঞ্চারগুলো খনন করে বের করছে। এর ফলে তাদের সচল মিসাইল লঞ্চারের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ থেকে বেড়ে এখন দুই-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার জন্য প্রধান হুমকি ইরানের উপকূলীয় ডিফেন্স ক্রুজ মিসাইলগুলোর সিংহভাগই অক্ষত রয়েছে।
অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, ইরান আগামী ৬ মাসের মধ্যে তাদের যুদ্ধের আগের ড্রোন হামলার পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরে যেতে পারে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দ্রুত সামরিক সক্ষমতা অর্জনে ইরানকে রাশিয়া এবং চীন নেপথ্যে সাহায্য করছে। বিশেষ করে, সংঘাতের সময়ও চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ সরবরাহ করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও অভিযোগ করেছিলেন, চীন ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উপাদান দিচ্ছে। তবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি সিএনএন-এর এই প্রতিবেদনটি ‘তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি নয়’।
সূত্রগুলোর মতে, ইরান যেভাবে দ্রুত সামরিক শক্তি পুনর্গঠন করছে, তা ইঙ্গিত দেয় যে দেশটি এখনও অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। এমনকি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করলেও ইরান বড় ধরনের আঞ্চলিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে সক্ষম হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যুদ্ধবিরতির ফলে ইরান যেভাবে নিজেকে দ্রুত গুছিয়ে নিয়েছে, তাতে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলোর ওপর আরও মারাত্মক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাতে সক্ষম হবে।
তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানিয়েছেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদন যাই হোক না কেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের নির্দেশ পাওয়ামাত্র যেকোনো সময় এবং যেকোনো স্থানে হামলা চালানোর মতো পর্যাপ্ত যুদ্ধ সরঞ্জাম ও শক্তি মার্কিন সামরিক বাহিনীর রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন, রয়টার্স
এমএইচআর




