আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ মে ২০২৬, ১০:২০ পিএম
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পর দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় বসানোর পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে এই গোপন পরিকল্পনার তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস।
এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের সূচনালগ্নে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হওয়ার কয়েক দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে মন্তব্য করেন, ইরানের ক্ষমতা যদি ‘ভেতরের কেউ’ গ্রহণ করত, তাহলে সেটাই সবচেয়ে ভালো হতো।
এ বিষয়ে অবহিত মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, একজন নির্দিষ্ট ও বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বকে সামনে রেখেই যুদ্ধ শুরু করেছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। ওই ব্যক্তি আর কেউ নন- ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমেদিনেজাদ, যিনি তার কঠোর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। তবে ইসরায়েলিদের তৈরি সেই দুঃসাহসিক পরিকল্পনাটি দ্রুতই ভেস্তে যায়।
মার্কিন কর্মকর্তারা এবং আহমাদিনেজাদের এক সহযোগীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের প্রথম দিনেই তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাড়িতে একটি ইসরায়েলি হামলায় তিনি আহত হন। হামলাটি তাকে গৃহবন্দিত্ব থেকে মুক্ত করার উদ্দেশ্যেই চালানো হয়েছিল। সেই হামলা থেকে বেঁচে গেলেও, এর পর থেকে তাকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি এবং তার বর্তমান অবস্থানও অজানা।
কর্মকর্তারা বলেন, পরিকল্পনা সম্পর্কে আহমাদিনেজাদকেও অবহিত করা হয়েছিল। তবে হামলায় আহত হওয়ার পর পুরো পরিকল্পনা ভেঙে পড়ে।
এদিকে ওয়াশিংটন-তেল আবিব কেন আহমাদিনেজাদ ইরানের ক্ষমতায় বসানের চিন্তা করেছিল, তা এখনো অজানা। কারণ ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন ‘ইসরায়েলকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বানের জন্য পরিচিত ছিলেন আহমাদিনেজাদ। এছাড়াও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির একজন শক্তিশালী সমর্থক, যুক্তরাষ্ট্রের একজন কট্টর সমালোচক এবং অভ্যন্তরীণ ভিন্নমতের ওপর সহিংস দমনপীড়নের জন্য পরিচিত ছিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ইরানি নেতাদের সঙ্গে আহমাদিনেজাদের দ্বন্দ্ব ক্রমশ বাড়ছিল এবং বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচক ও বিরোধী কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন তিনি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে থাকতে পারে। এছাড়াও অতীতে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশংসা করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলেছিলেন।
সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
এমএইচআর