যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি আবার ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তবে সেই যুদ্ধ (মধ্যপ্রাচ্য) অঞ্চলটির বাইরেও ছড়িয়ে পড়বে বলে বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
বুধবার নিজেদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট সেপাহ নিউজে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি বলেছে, ‘ইরানের বিরুদ্ধে ফের আগ্রাসন চালানো হলে, যুদ্ধ এবার অঞ্চল ছাড়িয়ে যাবে এবং আমাদের বিধ্বংসী আঘাত আপনাদের এমন স্থানে কালো মাটিতে ফেলে দেবে যা আপনি কখনও কল্পনাও করেননি। আমাদের ধ্বংসাত্মক হামলা আপনাদেরকে গুঁড়িয়ে দেবে।’
বিজ্ঞাপন
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামনের কয়েক দিনের মধ্যে স্থায়ী সমাধানে কোনো চুক্তি না হলে, ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এ সতর্কবার্তা দিল আইআরজিসি।
ইরানি সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর বাহিনীটি আরও বলেছে, ‘মার্কিন-জায়নবাদী শত্রুকে জানতে হবে যে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দুই সেনাবাহিনীর পূর্ণ সক্ষমতা ব্যবহার করে আমাদের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলেও, আমরা এখনো পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করিনি।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, নতুন করে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও বড় ‘সারপ্রাইজ’ অপেক্ষা করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় সংঘাত শুরু হলে আরও বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে তেহরান পুরোপুরি প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
বিজ্ঞাপন
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘বিগত দিনের যুদ্ধ থেকে আমরা যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তাতে আবারও যুদ্ধ শুরু হলে এবার মার্কিনদের জন্য আরও অনেক বড় সারপ্রাইজ অপেক্ষা করছে।’
মার্কিন অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার প্রসঙ্গ টেনে আরাঘচি বলেন, ‘আমাদের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী যে যুক্তরাষ্ট্রের বহুল প্রশংসিত এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান প্রথম ভূপাতিত করার গৌরব অর্জন করেছে, তা এখন প্রমাণিত।’
এরআগে মঙ্গলবার (১৯ মে) হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প দাবি করেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অনুরোধে ইরানের সামরিক হামলার পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন তিনি।
তবে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীকে তিনি ইরানে বড় ধরনের হামলার জন্য প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন। যদি চুক্তি না হয়, তাহলে যাতে এক মুহূর্তের নির্দেশে ইরানে ফের হামলা চলাতে পারে মার্কিন সেনারা।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএইচআর




