আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ৪২টি সামরিক বিমান ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে দেশটির অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, ড্রোন, জ্বালানি ট্যাঙ্কার এবং নজরদারি বিমানও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিস (সিআরএস)-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর- পেন্টাগন, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তথ্য গোপনীয়তার সীমাবদ্ধতা, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির কারণ নির্ণয়ে জটিলতার কারণে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সিআরএস বলছে, ধ্বংস হওয়া বিমানগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি সবচেয়ে উন্নত যুদ্ধবিমানও রয়েছে, এরমধ্যে চারটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল, একটি এফ-৩৫এ লাইটনিং টু স্টেলথ ফাইটার, একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু অ্যাটাক এয়ারক্রাফট।
এছাড়াও সাতটি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার রিফুয়েলিং প্লেন, একটি ই-৩ সেন্ট্রি অ্যাওয়াকস সার্ভেইল্যান্স এয়ারক্রাফট, দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু স্পেশাল অপারেশনস এয়ারক্রাফট, একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু রেসকিউ হেলিকপ্টার, ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন উচ্চ-উচ্চতার সার্ভেইল্যান্স ড্রোন পুরোপুরি ধ্বংস এবং আরও ১০টি বিমান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।
সিআরএস জানিয়েছে, ৪২টির মধ্যে আটটি আকাশযান হারানোর খবর সেন্টকম নিশ্চিত করেছে, বাকিগুলো সংবাদমাধ্যমের সূত্রের ভিত্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছিল সিআরএস। এর একদিন আগে সিনেটে একটি বিশেষ কমিটির শুনানিতে ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা এড কেস পেন্টাগনের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা জে হার্স্টকে জিজ্ঞাসা করেন, “মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক সংবাদ সংস্থা ‘দ্য ওয়ার জোন’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩৯টি বিমান হারিয়েছে এবং এটি প্রায় এক মাস আগের একটি পুরনো প্রতিবেদন। পেন্টাগন এই সমস্ত বিমানের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব যুদ্ধের মোট ব্যয়ে অন্তর্ভুক্ত করেছে কিনা?”
এসময় বিমানের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও জে হার্স্ট মার্কিন আইনপ্রণেতাদের বলেন, ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ২৯ বিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা) ছাড়িয়ে গেছে, যা গত মাসের শেষের দিকে দেওয়া হিসাবের তুলনায় ৪ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে।
হাস্ট আরও জানান, যুদ্ধের এই খরচ মূলত গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামের মধ্যে সীমিত, এর মধ্যে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষতির হিসাব অন্তর্ভুক্ত নয়। এছাড়াও হামলার আগে সামরিক প্রস্তুতির খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
অন্যদিকে সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে তার শত শত কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্রের ভান্ডারের একটি বড় অংশ নিঃশেষ করে ফেলেছে। এরমধ্যে ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর মিসাইল ছিল—যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লক্ষ ডলারেরও বেশি। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র চীনের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য নির্মিত প্রায় ১,১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ মিসাইল ব্যবহার করে ফেলেছে, যা তাদের মজুদে থাকা মোট সংখ্যার কাছাকাছি।
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ হিসাব ও কর্মকর্তাদের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরান যুদ্ধ ১ হাজারেরও বেশি প্রিসিশন স্ট্রাইক ও এটিএসিএমএস স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার হয়েছে। ফলে এসব অস্ত্রের মজুতও উদ্বেগজনকভাবে কমে গেছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধে ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হলেও এই সংখ্যা আসল চিত্র তুলে ধরছে না। কারণ বড় লক্ষ্যবস্তুতে সাধারণত একাধিকবার আঘাত করা হয়।
দুটি স্বাধীন গবেষণা সংস্থা বরাতে নিউইয়র্ক টাইমস আরও জানিয়েছে, ৪০ দিনের এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার খরচ হয়েছে, অর্থাৎ দিনে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্রের মজুত পূরণের ফলে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন ডলারেও পৌঁছাতে পারে।
সূত্র: গালফ নিউজ
এমএইচআর