আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৭ মে ২০২৬, ০৮:১৪ পিএম
ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর হুমকির জবাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) রোববার (১৭ মে) এক বিবৃতিতে সেনা প্রধানের ওই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। এর ফলে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
পারমাণবিক শক্তিধর দুই দেশের সাম্প্রতিক এই বাক্যবিনিময় দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
এর আগে গতকাল শনিবার (১৬ মে) ভারতীয় সেনাপ্রধান নয়াদিল্লিতে এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বলেন, পাকিস্তান যদি সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া ও ভারতের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা ভূগোলের অংশ হিসেবে টিকে থাকবে নাকি ইতিহাসে পরিণত হবে।
আরও পড়ুন: ইরান-আমিরাতের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি মধ্যস্থতা করতে পারে ভারত: ল্যাভরভ
তিনি আরও ইঙ্গিত করেন, সীমান্তপারের সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকলে ভারতের সামরিক প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে। অতীতের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে ভারতীয় বাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। তার বক্তব্যকে ভারতের কৌশলগত অবস্থানের কঠোর পুনর্ব্যক্তি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
এই মন্তব্য প্রকাশের পরপরই পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর) তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মুখপাত্রের দফতর এক বিবৃতিতে এ ধরনের মন্তব্যকে দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উসকানিমূলক বলে উল্লেখ করে এর নিন্দা জানায়।
আইএসপিআর দাবি করে, পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পন্ন একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রকে নিয়ে এ ধরনের বক্তব্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সংস্থাটি আরও বলে, পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্র এবং এ ধরনের মন্তব্য কূটনৈতিক আচরণের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী সংযম ও কৌশলগত পরিপক্বতা বজায় রাখার আহ্বান জানায়। একই সঙ্গে তারা ভারতের নীতিনির্ধারণী মহলের কিছু বক্তব্যকে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করে।
আরও পড়ুন: অভিযান শেষে ফিরল বৃহত্তম মার্কিন রণতরী, এবার কি শান্ত হবে মধ্যপ্রাচ্য?
দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যু বারবার দুই দেশের সম্পর্ককে সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সীমান্ত সংঘর্ষ, সন্ত্রাসবাদ অভিযোগ এবং পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানের কারণে অতীতেও দুই দেশের সম্পর্ক একাধিকবার উত্তপ্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক এই মন্তব্য ও পাল্টা প্রতিক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল বাক্যবিনিময় নয়, বরং দুই দেশের কৌশলগত অবস্থানের আরেকটি প্রকাশ। তারা মনে করছেন, এমন বক্তব্য কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কোনো কূটনৈতিক সংলাপ বা বৈঠকের ঘোষণা নেই। ফলে এই উত্তেজনা কতদূর গড়ায়, তা নিয়ে সতর্ক নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও মত দিচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা।
এআর