ইরানে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরেছে বিশ্বের বৃহত্তম ও আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড।
শনিবার ভার্জিনিয়ার নরফোক নৌঘাঁটিতে পৌঁছায় মার্কিন নৌবাহিনীর এই যুদ্ধজাহাজ। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে-তাহলে কি ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা কমাতে চাইছে ওয়াশিংটন?
বিজ্ঞাপন
তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, শুধু জেরাল্ড আর ফোর্ডের ফিরে আসাকে যুদ্ধের সমাপ্তির ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন আছে।
প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক নিয়ে ২০২৫ সালের ২৪ জুন ভার্জিনিয়া উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড। প্রথমে ভূমধ্যসাগরে মোতায়েন করা হয় জাহাজটিকে। পরে তা পাঠানো হয় ক্যারিবীয় অঞ্চলে, একেবারে ভেনেজুয়েলার পাশেই। চলতি বছরের শুরুতে ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ এবং ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’-এ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে রণতরীটি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের দাবি, ‘জেরাল্ড আর ফোর্ড’-কে ছাড়া ভেনেজ়ুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা সম্ভব হতো না।
ফেব্রুয়ারির পর ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে জাহাজটিকে পশ্চিম এশিয়ায় নেওয়া হয়। ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র একাধিক অভিযানে অংশ নেয় বিশ্বের বৃহত্তম এই রণতরীটি। মার্চে সুয়েজ খাল পেরিয়ে লোহিত সাগরে অবস্থান নেয় জেরাল্ড আর ফোর্ড। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক অভিযানে অংশ নেয় সেটি।
বিজ্ঞাপন
অভিযানের সময় কিছু সমস্যারও মুখে পড়ে রণতরীটি। মার্চে জাহাজটিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে দুজন আহত হন। পাশাপাশি বর্জ্য নিষ্কাশনব্যবস্থায় ত্রুটির কথাও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
জেরাল্ড আর ফোর্ডের সঙ্গে দেশে ফিরেছে ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস বেনব্রিজ ও ইউএসএস মাহান। নরফোক নৌঘাঁটিতে নাবিকদের স্বাগত জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু দায়িত্ব পালন করেননি, ইতিহাসও তৈরি করেছেন।’
টানা ১১ মাস সমুদ্রে মোতায়েন থাকার মধ্য দিয়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর দীর্ঘতম অভিযানের একটি রেকর্ড গড়েছে জেরাল্ড আর ফোর্ড। দীর্ঘ এই সময়ে নাবিকদের পরিবারও উদ্বেগে ছিলেন। প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজনেরা।
তবে জেরাল্ড আর ফোর্ড ফিরে এলেও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি শান্ত নয়। সেখানে এখনো মোতায়েন আছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী আব্রাহাম লিঙ্কন। সম্প্রতি যোগ দিয়েছে জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশও। দুই পক্ষ আপাতত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও পুরোপুরি শান্তি ফেরেনি।
বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্ন হামলার ঘটনাও ঘটছে। ফলে অঞ্চলটিতে উত্তেজনা আবারো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা।
এমআর




