Dhaka Mail Logo

আন্তর্জাতিক

ইরানে হামলা চালাতে আরব দেশগুলোকে উসকানি দেয় আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

১৫ মে ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ চলাকালে ইরানের ওপর একটি সম্মিলিত হামলার জন্য সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে আরব দেশগুলোর সাড়া না পেয়ে একাই ইরানের ওপর গোপনে ও স্বাধীনভাবে হামলা চালায় আবুধাবি। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ।  

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরপরই সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানসহ আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন।

ফোন আলাপকালে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট উপসাগরীয় নেতাদের স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের হুমকির মোকাবিলায় জন্যই ১৯৮১ সালে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। 

তিনি দাবি করেন, ইরানকে প্রতিহত করার জন্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে একটি জোট হিসেবে সাড়া দিতে হবে এবং যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। 

তবে সৌদি যুবরাজসহ উপসাগরীয় নেতারা আমিরাতের প্রেসিডেন্টের সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেন এবং এটি ‘তাদের যুদ্ধ নয়’ বলে শক্ত অবস্থান নেন। এই প্রত্যাখ্যান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে আগে থেকেই বিদ্যমান টানাপোড়েন আরও গভীর করেছে। এছাড়াও অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গেও আমিরাতের দূরত্ব তৈরি করে, যা এপ্রিলের শেষে তেল রপ্তানিকারকদের জোট ‘ওপেক’ ত্যাগ করে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ হওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল।

ব্লুমবার্গ আরও জানিয়েছে, সৌদি আরব মার্চ মাসে ইরানের ওপর গোপনে হামলা চালালেও পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাকিস্তান মধ্যস্থতা শুরু করলে নিজেদের গুটিয়ে নেয় দেশটি। তারা যুদ্ধ বন্ধে পাকিস্তানের চেষ্টাকেই প্রাধান্য দেয়।

অন্যদিকে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ভালোভাবে নেয়নি আমিরাতের কর্মকর্তারা। ফলস্বরূপ ইসলামাবাদকে দেওয়া ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ ফেরত চায় আবুধাবি। পরবর্তীতে সৌদি আরব পাকিস্তানকে সেই অর্থের একটি অংশ পরিশোধে সহায়তা করে। 

এদিকে একজন উপসাগরীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্চের মাঝামাঝি সময়ে ইরান কাতারের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র রাস লাফান শিল্প নগরীতে হামলা চালানোর পর তেহরানকে সামরিক জবাব দেওয়ার কথা বিবেচনা করেছিল দোহা। তবে শেষ পর্যন্ত সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার থেকে বিরত থাকে কাতার এবং এর পরিবর্তে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ভূমিকা পালন করাকেই শ্রেয় মনে করে।

এছাড়াও বাহরাইন ও কুয়েত, যারা সাধারণত সৌদি আরবের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত- তারাও এই সংঘাত থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। আর ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে ওমানকে প্রতিশোধমূলক হামলায় যোগদানের চন্য আহ্বানই জানায়নি আমিরাত। 

সূত্র: ইয়েনেট, ব্লুমবার্গ

এমএইচআর