সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ইরানের ভূখণ্ডে গোপনে সামরিক হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আরব আমিরাতের হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের লাভান দ্বীপে একটি শোধনাগার। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়ার কাছাকাছি সময়ে ওই হামলা চালানো হয়। এতে শোধনাগারটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটে এবং এটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞাপন
তবে হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বা সময় উল্লেখ করেনি ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর জবাবে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। সূত্রগুলোর একটির দাবি, এই সংঘাতে আমিরাতের সম্পৃক্ততাকে যুক্তরাষ্ট্র নীরবে সমর্থন করেছিল।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ইরান অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় আরব আমিরাতে বেশি হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলকে ছাড়িয়ে দেশটির ওপর দুই হাজার ৮০০টির বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এসব হামলায় আরব আমিরাতের অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক ছুটির ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি দেশটির কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এসেছে বলে উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকজন কর্মকর্তার বরাত দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তারা বলেন, আমিরাত এখন ইরানকে ‘বেপরোয়া শক্তি’ হিসেবে বিবেচনা করছে, যা দেশটির প্রবাসী শ্রমশক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
এ বিষয়ে আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। তবে তারা আগের এক বিবৃতির কথা উল্লেখ করে বলেছে, আবুধাবির বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের জবাব দেওয়ার অধিকার সংযুক্ত আরব আমিরাতের রয়েছে।
এমআর




