আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৫ মে ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
বৈশ্বিক জ্বালানি অস্থিতিশীলতা সত্ত্বেও ভারত দীর্ঘদিন পর্যন্ত পেট্রোল ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি এড়িয়ে চলতে সক্ষম হয়েছিল। তবে শেষমেষ দাম বাড়াতেই হলো। আজ থেকে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম লিটার প্রতি তিন রুপি করে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। কেজি প্রতি দুই টাকা করে বাড়ানো হয়েছে সিএনজির দামও।
২০২২ সালের এপ্রিল মাস থেকে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল ছিল। তবে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে লোকসভা নির্বাচনের ঠিক আগে পেট্রোল ও ডিজেল উভয়ের দাম লিটার প্রতি দুই টাকা কমানো হয়েছিল।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারত গড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ৬৯ ডলার দরে অপরিশোধিত তেল আমদানি করত, যা পরবর্তী মাসগুলোতে বেড়ে গড়ে ব্যারেল প্রতি ১১৩-১১৪ ডলার হয়েছিল। এই ঘটনার পরে ভারতের কূটনৈতিক নীতি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাধিক বিশেষজ্ঞ।
এদিকে সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ভারতীয়দের বাড়ি থেকে কাজ করতে এবং গণপরিবহন ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছেন।
নতুন দাম অনুযায়ী, কলকাতায় পেট্রোলের দাম লিটারে তিন টাকা ২৯ পয়সা বেড়ে দাম হয়েছে ১০৮ টাকা ৭৪ পয়সা। আর দেশটির রাজধানী দিল্লিতে পেট্রোলের দাম লিটার প্রতি ৯৪ টাকা ৭৭ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৯৭ টাকা ৭৭ পয়সা করা হয়েছে। ডিজেল এখন লিটার প্রতি ৯০ টাকা ৬৭ পয়সায় পাওয়া যাবে, যা আগে ছিল ৮৭ টাকা ৬৭ পয়সা।
তেল শিল্পের সূত্রগুলো সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছে, মুম্বাই ও চেন্নাইতে পেট্রোলের খুচরা মূল্য এখন যথাক্রমে লিটার প্রতি ১০৬ টাকা ৬৮ পয়সা এবং ১০৩ টাকা ৬৭ পয়সা দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, ডিজেল মুম্বাইতে লিটার প্রতি ৯৩ টাকা ১৪ পয়সা, কলকাতায় লিটার প্রতি ৯৫ টাকা ১৩ পয়সা এবং চেন্নাইতে লিটার প্রতি ৯৫ টাকা ২৫ পয়সায় পাওয়া যাবে।
তবে প্রথমে দেখে নেওয়া যাক এই অবস্থা কেন তৈরি হলো।
আরও পড়ুন
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কাছে বর্তমানে ৬৯ হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে, ভারত অপরিশোধিত তেল আমদানিতে ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় করেছে, এরপরেই রয়েছে ইলেকট্রনিক সামগ্রীতে ১১ হাজার ৬০০ কোটি ডলার। তৃতীয় স্থানে রয়েছে স্বর্ণ আমদানি, যার মূল্য সাত হাজার ২০০ কোটি ডলার।
ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান মূল্যের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট সরকার মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলেই জানা যাচ্ছে।
ইরানের উপর মার্কিন হামলার পর এই প্রথম বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশের প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের ব্যয় কমানোর জন্য আবেদন করেছিলেন। এছাড়া, ভারত তার তেলের ঘাটতি মেটাতে অন্যান্য দেশের দিকে ঝুঁকেছে।
মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র আংশিকভাবে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার পর, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা শুরু করে এবং দেশীয় শোধনাগারগুলোকে স্থানীয় ব্যবহারের জন্য রান্নার গ্যাস উৎপাদনে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
এদিকে উপসাগরীয় দেশগুলোতে যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির পর থেকে ভারতীয় রুপি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রাগুলোর মধ্যে অন্যতম। ডলারের বিপরিতে রুপির মান কমেছে। সংঘাতের শুরুতে প্রতি ডলার কিনতে হতো ৯১ রুপিতে, এখন কিনেতে হচ্ছে ৯৫ রুপিতে।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার সাবেক ডেপুটি গভর্নর মাইকেল দেবব্রত পাত্র বলেছেন, একটি শক্তিশালী অবস্থান অর্জনের জন্য ভারতকে তার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়িয়ে অন্তত এক লাখ কোটি ডলারে উন্নীত করতে হবে। যেখানে বর্তমানে ভারতের কাছে ৬৯ হাজার কোটি ডলার বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে।
এই বছরের ১৬ মার্চ ‘বেসিস পয়েন্ট’-এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে পাত্র লেখেন, ‘বাজারের অস্থিতিশীলতার দিকে তাকিয়ে মনে হয় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। এক লক্ষ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রাটি দুটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষাব্যবস্থার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত।’
তার কথায়, ‘এর মধ্যে, এক বছরের মধ্যে পরিশোধযোগ্য সমস্ত বৈদেশিক ঋণ মেটানোর জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি ডলার প্রয়োজন এবং বাকি ৬৫ হাজার কোটি ডলার বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের দ্বারা সম্ভাব্য বড় আকারের অর্থের বাইরে চলে যাওয়া রোধ করার জন্য প্রয়োজন।’
সাবেক এই ডেপুটি গভর্নর আরও লিখেছেন, ‘এর কারণ হলো, বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগের বহির্গমন ব্যাপক হতে পারে এবং তা বেশ কয়েক বছর ধরে চলতে পারে। ভারত ২০২২-২৩ সালের পর ইতোমধ্যেই এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, এই ধরনের সমস্যা থেকে সুরক্ষার জন্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি থেকে ৬৫ হাজার কোটি ডলারের প্রয়োজন হতে পারে।’
বিশ্বজুড়ে দেশগুলো সাধারণত তাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ৬০ শতাংশেরও বেশি মার্কিন ডলারে রাখে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে তার আমদানির খরচ মেটাতে বা নিজস্ব মুদ্রাকে সমর্থন করার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা রাখার প্রয়োজন হয় না।
পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাতের কারণে ভারত রান্নার গ্যাসের ঘাটতি এবং ক্রমবর্ধমান তেলের দামের সঙ্গে লড়াই করছে। দেশটি গত বছরে ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার মূল্যের তেল ও গ্যাস আমদানি করেছিল। ফলে, এই সংকট দেশের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
ভারতের বৈদেশিক আমদানির মধ্যে সবথেকে বেশি খরচ হয় অপরিশোধিত তেলের জন্যই। আর এই প্রাকৃতিক গ্যাস (এনএলজি) আমদানির দুই-তৃতীয়াংশ এবং অপরিশোধিত তেল আমদানির অর্ধেক আসে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এর পর ইলেকট্রনিক পণ্য, সোনা, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য ধাতু অমদানিতে খরচ হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি সৌদি আরবের আরামকো সতর্ক করেছে, যদি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকে, তবে গ্যাসোলিন এবং জেট ফুয়েলের মজুদ বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে।
সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমিন নাসের সোমবার বলেছেন, খনিজ জ্বালানির মজুদ দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এবং গ্যাসোলিন ও জেট ফুয়েলের মতো পরিশোধিত জ্বালানির মজুদ সবচেয়ে তীব্রভাবে কমছে।
তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকার পর থেকে বিশ্ব মোট ১০০ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ হারিয়েছে। এছাড়া, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে প্রতি সপ্তাহে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার কোটি ব্যারেল সরবরাহ কমে যাবে।
গত ১০ সপ্তাহে তেলের দামে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা গেছে, যা এপ্রিলের শেষে ব্যারেল প্রতি ১২৬ ডলারে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছালেও পরে তা কমে প্রায় ১০০ ডলারে নেমে আসে।
ইরান যুদ্ধের কারণে পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার কমানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া জানিয়েছে, ভারতে তেল সরবরাহের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হবে না।
১৪-১৫ মে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আগে রাশিয়া পরিচালিত গণমাধ্যম আরটি ইন্ডিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এই কথা বলেন।
প্রসঙ্গত, ১০ মে প্রধানমন্ত্রী মোদী ইরান যুদ্ধের কথা উল্লেখ করে পেট্রোল, ডিজেল ও ভোজ্য তেলের ব্যবহার কমানোর এবং সোনা কেনা কমানোর আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের আমদানির একটি বড় অংশই হলো অপরিশোধিত তেল, এবং দুর্ভাগ্যবশত, যে অঞ্চল থেকে বিশ্বের একটি বড় অংশ তেল পায়, তা সংঘাত ও যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। তাই, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সকলকে সম্মিলিতভাবে ছোট ছোট সংকল্প গ্রহণ করতে হবে।’
ল্যাভরভ বলেছেন, ‘যারা রাশিয়া-ভারত বন্ধুত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করার চেষ্টা করছেন, আমার মনে হয় তাদের চিন্তিত হওয়ার কোনো কারণ নেই... কিছু শক্তি ভারত-রাশিয়া সম্পর্ককে দুর্বল করার চেষ্টা করছে, কিন্তু তাদের প্রচেষ্টা সফল হবে না।’
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘ভারতের স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কোনো পশ্চিমা দেশই ভারতের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে ইচ্ছুক ছিল না। রাশিয়া শুধু ভারতকে অস্ত্রই সরবরাহ করেনি, বরং বিভিন্ন অস্ত্র উৎপাদনের প্রযুক্তিও ভাগ করে নিয়েছে।’
সের্গেই ল্যাভরভ বারবার বলেছেন, অন্যান্য দেশকে রাশিয়ার তেল না কেনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে যে চাপ দেওয়া হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ অন্যায্য। তিনি চান আরও বেশি দেশ তার দেশের কাছ থেকে তেল কিনুক।
কিন্তু ভারতের সাবেক বাণিজ্য কর্মকর্তা এবং গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)-এর প্রধান অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, ‘ভারত তার ৯০ শতাংশ তেল আমদানি করে। এর মধ্যে, উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা তেলের ৫০ শতাংশ হরমুজ প্রণালীর কারণে আটকে আছে।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর আমরা রাশিয়া থেকে যে তেল কিনেছিলাম তার ৩০ শতাংশ মার্কিন চাপের কারণে আটকে আছে। এটি একটি জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্র তার তেল বিক্রি করার চেষ্টা করছে। গত বছর আমরাও তাদের থেকে আগের তুলনায় দ্বিগুণ তেল কিনেছি। তবুও, এর পরিমাণ ১০ হাজার কোটি ডলারেও পৌঁছায়নি।’
অজয় শ্রীবাস্তব প্রশ্ন করেন, ‘ইউরোপ রাশিয়া থেকে জ্বালানি কেনা বন্ধ করে দিয়েছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনার কথা চলছে। ব্রিটেনও তাই করছে। কিন্তু আমেরিকার কাছে সরবরাহ করার মতো যথেষ্ট তেল নেই। তাদের শোধনাগারগুলো তৈরি হচ্ছে, এবং সেগুলো সম্পূর্ণ হতে ১০ বছর সময় লাগবে... ততদিন পর্যন্ত?’
‘ফলে, ভেনেজুয়েলা ও ইরানে আক্রমণের মতো ঘটনাগুলোর পেছনের উদ্দেশ্য হলো আমেরিকার তেল সম্পদ বৃদ্ধি করা’— মনে করেন মি. শ্রীবাস্তব।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব দেশ থেকে তেল কিনি, সেগুলো রাশিয়ার মতো এত বেশি তেল সরবরাহ করার মতো যথেষ্ট বড় নয়। পশ্চিম এশিয়া ও রাশিয়া আমাদের 'লাইফলাইন', এবং উভয়র সঙ্গে সম্পর্ক বর্তমানে থমকে আছে। তাই, আমাদের অবিলম্বে রাশিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করা উচিত এবং আমেরিকার কথা নিয়ে চিন্তা করা উচিত নয়।’
কিন্তু এই বিষয়ে প্রবীণ সাংবাদিক ও কূটনৈতিক বিশ্লেষক স্মিতা শর্মার ভিন্ন মত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না ভারত এমনটা করবে। আজ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির সমস্যা হলো, আমরা আমেরিকার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারছি না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং উৎপাদন খাতকে পঙ্গু করে দিয়েছে... এখন আমাদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপের মধ্যে রয়েছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ভারতের ওপর আস্থা নেই, এবং এমন পরিস্থিতিতে ভারত কারও শত্রু হওয়ার মতো অবস্থায় নেই। তাই, রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করলেও আমরা তা ঘোষণা করব না।’
ভারতের কূটনৈতিক নীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘ব্রিকস-এ ভারত একঘরে হয়ে পড়েছে, কারণ রাশিয়া-চীন-ইরান একজোট হয়ে আছে এবং ভারত যদিও নীতিতে কিছু পরিবর্তন করছে, তা সত্ত্বেও ভারত দেখিয়ে দিচ্ছে যে সে ইসরায়েল ও আমেরিকার সঙ্গেই আছে। ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু সম্পর্কের মধ্যে একটা তিক্ততা রয়েছে।’ বিবিসি বাংলা
এমএইচআর