আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ মে ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও দেশটিকে বিশ্ব শান্তির জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে অভিহিত করেছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের দেওয়া জবাবকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করার পর ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এই মন্তব্য করেন।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই বলেন, ‘এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি এবং মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোই সহিংসতা ও উৎপীড়নের একটি চক্র তৈরির উদাহরণ।’
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একতরফা ও অযৌক্তিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যেসব দাবি করেছে তা একেবারেই অযৌক্তিক। অন্যদিকে ইরান যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো পুরোপুরি যৌক্তিক।’
বাঘেই বলেন, ‘এই অঞ্চলে যুদ্ধ বন্ধ করা কি ইরানের অতিরিক্ত কোনো দাবি? এই অঞ্চলে ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে জলদস্যুতা বন্ধের দাবি কি অন্যায্য? যেটিকে নৌ-অবরোধ বলা হচ্ছে, বিদেশি ব্যাংকে জব্দ থাকা ইরানের জনগণের সম্পদ ফেরত চাওয়া কী অন্যায়? হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে যাতায়াতের প্রস্তাব কী মাত্রাতিরিক্ত? কিংবা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবি কি খুব বেশি চাওয়া?’
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচলের জন্য ইরানের প্রস্তাব এবং সমগ্র অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে অতিরিক্ত বা দায়িত্বজ্ঞানহীন দাবি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়।
ইউরোপীয় দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালীতে যুদ্ধজাহাজ না পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে বাঘেই বলেন, ‘তাদের এমন যেকোনো পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকা উচিত যা তাদের স্বার্থকে ক্ষুণ্ণ করবে। এই যুদ্ধ শুধু অনৈতিকই নয়, এটি বেআইনিও। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আগ্রাসন শুরু করেছে। ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতারিত হওয়া উচিত নয়।’
আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেই—এমন দাবি করা প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে বাঘেই আরও বলেন, তেহরানের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান ঘটানো, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাহাজের বিরুদ্ধে বৈরী কার্যকলাপ ও অবরোধ প্রতিরোধ করা। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিতে এই অগ্রাধিকারগুলোকে ‘দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক’ বলে বর্ণনা করেন।
ইরান-মার্কিন আলোচনার ভবিষ্যৎ এবং আরেকটি মার্কিন হামলার সম্ভাবনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে বাঘেই বলেন, ইরান প্রয়োজনে লড়াই করবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য যখনই কার্যকর বলে মনে হবে, কূটনৈতিক পথও ব্যবহার করবে।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, রোববার ভোরে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সর্বশেষ মার্কিন শান্তি পরিকল্পনার জবাব পাঠিয়েছে ইরান।
ইরানের সর্বশেষ পাল্টা প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম প্রেস টিভি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, প্রস্তাবে ইরানের ওপর আরোপীত সকল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।
সূত্র: তাসনিম নিউজ, টাইমস অব ইসরায়েল
এমএইচআর