আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ মে ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অগ্রগতির অভাবে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। এতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির কারণে সুদের হার দীর্ঘ সময়ের জন্য বেশি থাকতে পারে।
আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১১ মে) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৬৭৮ দশমিক ৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া জুন মাসের ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারও শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৬৮৬ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছে।
বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, ডলারের দাম বাড়ায় অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলার-মূল্যের স্বর্ণ আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শান্তি আলোচনার জন্য দেওয়া মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরানের প্রতিক্রিয়া প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার আশা ভেঙে যায়। এই সংঘাতে ইরান ও লেবাননে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘শান্তি চুক্তির আশা কমে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম আবার বেড়েছে, আর এর চাপ স্বর্ণের ওপর পড়ছে।’
শুক্রবার প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ এবং এর ফলে তেলের দাম ও সরবরাহে ধাক্কা এখন আর্থিক স্থিতিশীলতার বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা এখন ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি বোঝার জন্য এই সপ্তাহে প্রকাশিতব্য মার্কিন ভোক্তা মূল্য সূচকের তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন।
এদিকে চায়না গোল্ড অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনের স্বর্ণ উৎপাদন আগের বছরের তুলনায় কমেছে। নিরাপত্তা পরিদর্শনের কারণে কিছু স্বর্ণখনি সাময়িকভাবে উৎপাদন বন্ধ রাখায় এই হ্রাস ঘটেছে।

আরও পড়ুন: তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন দরে স্বর্ণ
বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার আরও বলেন, বর্তমান অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করতে পারে।
অন্যান্য ধাতুর বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮০ দশমিক ৬১ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪১ দশমিক ৬৬ ডলারে নেমেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ কমে ১ হাজার ৪৮২ দশমিক ৪৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ সীমিত হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে। তেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি আরও বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়, যা সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ রাখার সম্ভাবনা বাড়ায়। যদিও স্বর্ণকে সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়, তবে উচ্চ সুদের হার এই অ-ফলনশীল ধাতুর আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।
এমআই