আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৯ মে ২০২৬, ০৭:৩৮ পিএম
বিধানসভা নির্বাচনে শোভনীয় পরাজয়ের পর ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের সদ্য সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড গ্রাউন্ডে শপথগ্রহণ করেছেন বিজেপি সরকারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই দিনে বিকেলে কালীঘাটে নিজের বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করেন তৃণমূলনেত্রী। সেখান থেকেই রাজ্যের বাম, অতিবাম নিয়ে নতুন মঞ্চ গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
মমতা বলেন, ‘চারদিকে সন্ত্রাসের বজ্রাঘাত চলছে। আমি সব রাজনৈতিক দল, ছাত্র-যুব সংগঠন, এনজিও সবাইকে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একটা মঞ্চ গড়তে চাই।’
তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, ‘বাম, অতিবাম, যেকোনো জাতীয় দল, যে যেখানে আছেন—আসুন, আমরা জোট বাঁধি। কেউ চাইলে আমার সঙ্গে কথা বলতে পারেন। ৪টা থেকে ৬টা পর্যন্ত আমি অফিসেই থাকব।’
আরও পড়ুৃন
বিজেপিকে প্রথম শত্রু উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়িয়ে আমি এই আবেদনটা সবার কাছে রাখলাম। এখন এটা ভাবার সময় নয় যে আমি কে, ও কে। শত্রুর শত্রু আমার বন্ধু। রাজনৈতিক ভাবে আমাদের প্রথম শত্রু হল বিজেপি।’
তিনি অভিযোগ করেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা জানাতে ‘দেশ বাঁচাও গণতান্ত্রিক মঞ্চ’ তিনটি জায়গায়— কালীঘাট মোড়, মুক্তদল এবং দমকলের বিপরীতে অনুমতি চেয়েছিল। কিন্তু সেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। এমনকি কালীঘাটে নিজ বাড়িতে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালনের অনুষ্ঠানেও বাধা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
মমতা বলেন, ‘সব ডেকরেটরকে মানা করে দিয়েছে। যাতে কেউ কোনও চৌকি না দেয়, প্যান্ডেল না করে। এগুলো যা দেখছেন, সব আমরা নিজেরা করেছি। সকালে দু’টো চৌকি কেনা হয়েছে। মাইকের বক্সও আমরা নিজেরাই অ্যারেঞ্জ করে নিয়েছি।’
বাইরের গুন্ডা নিয়ে এসে রাজ্যের মানুষের ওপরে অত্যাচার করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাড়ির সামনেও সকাল বেলা যা-তা করেছে। অভিষেকের বাড়ির সামনেও ধাক্কা সারা ক্ষণ চলছে। এমনকী ওর বাচ্চারা আছে, সেখানে ধাক্কা-টাক্কা মারছে’।
২০১১ সালের পালাবদল পরবর্তী পরিস্থিতি এবং ২০২৬ সালের পালাবদল পরবর্তী পরিস্থিতির তুলনাও টানেন মমতা।
তিনি বলেন, ‘আমি ২০১১ সালে জেতার পরে কারও উপর কোনও অত্যাচার করতে দিইনি। আমি নিজের বুলেটপ্রুফ গাড়ি বুদ্ধদেববাবুর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। জ়েড প্লাস নিরাপত্তা দিয়েছিলাম। তবে ওরা যে দিন থেকে জিতেছে, সে দিন রাত থেকে আমাদের সব নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছে। আমি তো চাই ওরা প্রত্যাহার করুক। আমি ওদের দয়া নিতে চাই না। আমি কারও ক্ষমাভিক্ষা চাই না। আমি কারও সহানুভূতি চাই না।’
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। তৃণমূল বিজয়ী হয় ৮০টি আসনে। এর ফলে ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচআর