পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তার সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন- দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, অশোক কীর্তনিয়া, নিশীথ প্রামাণিক এবং ক্ষুদিরাম টুডু। তবে শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্য কারা হবেন, তা নিয়ে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে।
বিজেপি সূত্রে কলকাতা-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার জানিয়েছে, শুভেন্দুর মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যদের শপথগ্রহণ হবে আগামী সোমবার (১১ মে)। এদিন লোক ভবনে রাজ্যপাল আরএন রবি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। তার পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সে দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে কে কোন দফতর সামলাবেন।
বিজ্ঞাপন
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দলের পক্ষ থেকে এখনো নতুন মন্ত্রীসভার তালিকা না দিলেও বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোর মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিধিত্ব রাখার রেওয়াজ আছে। পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মিলিয়ে বেশ কয়েকটি জেলা থেকে একাধিক মন্ত্রিত্ব দেওয়া হতে পারে।
এই তালিকায় মুর্শিদাবাদের গৌরীশঙ্কর ঘোষ, নদিয়ার বঙ্কিম ঘোষ, পূর্ব বর্ধমানের সৈকত পাঁজা, পশ্চিম বর্ধমানের জিতেন্দ্র তিওয়ারি, অগ্নিমিত্রা পাল মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন। হাওড়া থেকে রুদ্রনীল ঘোষ, হুগলি থেকে দীপাঞ্জন চক্রবর্তী, বাঁকুড়া থেকে সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়, পুরুলিয়া থেকে সুদীপ মুখোপাধ্যায়েরা মন্ত্রী হতে পারেন। পাশাপাশি, বীরভূম থেকে মন্ত্রিত্বের দৌড়ে নাম আছে জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের।
উত্তর ২৪ পরগনা থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন অর্জুন সিংহ, শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, সুব্রত ঠাকুর। দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন রূপা গঙ্গোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল খাঁ।
বিজ্ঞাপন
কলকাতা থেকে মন্ত্রিসভায় যেতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত ও রীতেশ তিওয়ারি। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে অশোক দিন্দা, পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে অজিত জানা ও দিলীপ ঘোষ মন্ত্রিত্বের দৌড়ে রয়েছেন।
ঝাড়গ্রাম থেকে মন্ত্রিত্ব পেতে পারেন প্রণত টুডু। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে সত্যেন রায়, কালিম্পং থেকে ভরত ছেত্রীকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হতে পারে বলে চর্চা রয়েছে।
দার্জিলিং জেলা থেকে মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন শঙ্কর ঘোষ। মালদহ থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান হতে পারেন জোয়েল মুর্মু এবং অম্লান ভাদুড়ী। উত্তর দিনাজপুর থেকে মন্ত্রিসভায় প্রতিনিধিত্ব করার সম্ভবনা উৎপল ব্রহ্মচারীর। আলিপুরদুয়ার থেকে মনোজকুমার ওরাওঁ মন্ত্রিসভায় আসতে পারেন। জলপাইগুড়ি থেকে মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন শিখা চট্টোপাধ্যায়। নতুন বিধানসভায় শাসক পক্ষের মুখ্য সচেতক হতে পারেন দীপক বর্মণ।
অন্যদিকে বিজেপি সূত্রের ইঙ্গিত, বিধানসভার স্পিকার হওয়ার দৌড়ে অনেকটা এগিয়ে আছেন তাপস রায়।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসনে জিতে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি। তৃণমূল বিজয়ী হয় ৮০টি আসনে। এর ফলে ১৫ বছর ধরে একটানা ক্ষমতায় থাকার পর তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনের অবসান হয়েছে।
সূত্র: আনন্দবাজার
এমএইচআর




