images

আন্তর্জাতিক

ইরানকে বিশ্বাস করা যায় না: আরব আমিরাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০১ মে ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

হরমুজ প্রণালির বিষয়ে ইরানের নেওয়া যেকোনো একতরফা ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না বলে মন্তব্য করেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ। একই সঙ্গে ইরান যুদ্ধ থামানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখন সম্পূর্ণ স্থবির অবস্থায় রয়েছে, যা এই গভীর অবিশ্বাসের প্রধান কারণ বলেও জানান তিনি।

গারগাশ বলেন, ‘প্রতিবেশীদের ওপর বিশ্বাসঘাতকতামূলক আচরণের পর হরমুজ প্রণালীতে ইরানের যেকোনো একতরফা ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখা যায় না’।

উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্বেগের ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচলের স্বাধীনতার জন্য আন্তর্জাতিক আইন এবং যৌথ আন্তর্জাতিক ইচ্ছাশক্তিই প্রধান নিশ্চয়তা, ইরানের কোনো একতরফা পদক্ষেপ নয়।

মূলত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলেরর সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার দুই মাস পরেও ইরানের অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি এখনও অনেকাংশে বন্ধ রয়েছে। তার ওপরে মার্কিন নৌ অবরোধে ইরানের অপরিশোধিত তেল রপ্তানি আটকে গেছে। এতে বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে এবং বিশ্বব্যাপী জ্বালানির দাম বেড়েই চলেছে ও অর্থনৈতিক মন্দার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।

এদিকে ইরানের নজিরবিহীন হামলার ধাক্কা সামলেও উপসাগরীয় ধনী দেশগুলো এখন যুদ্ধ ও শান্তির মাঝামাঝি এক অনিশ্চয়তায় আটকে আছে। আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগত হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার হুমকির মুখে পড়েছে। 

হরমুজ প্রণালি অবরোধ আরোপ করে ইরান উপসাগরীয় জ্বালানি রপ্তানিতে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি অবকাঠামো মেরামতে কয়েক মাস কিংবা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও নতুন করে হামলার আশঙ্কা উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলনির্ভর অর্থনীতির বাইরের খাতগুলোকেও ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। নিরাপদ বিনিয়োগ ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠার যে পরিকল্পনা উপসাগরীয় দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে তুলে ধরছিল, তা এখন হুমকির মুখে।

এখনও স্পষ্ট নয়, হরমুজ প্রণালি ও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণকে কেন্দ্র করে চলা অচলাবস্থা নিরসনের আলোচনা উপসাগরীয় দেশগুলোর মূল উদ্বেগ—গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ কমানো এবং তার ক্ষেপণাস্ত্র ও মিত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা, এসব বিষয়ে কোনো সমাধান দিতে পারবে কি না।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের ভবিষ্যৎ যত দীর্ঘ সময় অনিশ্চয়তায় থাকবে, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারও তত বিলম্বিত হবে। একই সঙ্গে যুদ্ধ ও শান্তি নিয়ে ওয়াশিংটনের সিদ্ধান্তে ঐতিহ্যগত মার্কিন মিত্র দেশগুলোর প্রভাবও কমে আসবে।

এদিকে গত ৮ এপ্রিল থেকে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইরানকে আলোচনায় বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন সামরিক হামলার পরিকল্পনা করছে—এমন খবরের জেরে বৃহস্পতিবার এক পর্যায়ে বিশ্বব্যাপী তেলের দাম চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ইরানের বিরুদ্ধে ‌‌‘স্বল্পস্থায়ী এবং শক্তিশালী’ হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এই পরিকল্পনায় ইরানের অবকাঠামোগত লক্ষ্যবস্তুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো- হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করা; যাতে এটি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এই অভিযানে স্থল বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরান ইতোমধ্যেই তার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে এবং যেকোনো হামলার ব্যাপক জবাব দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। 

বৃহস্পতিবার ইরানের গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাতকারে আইআরজিসির অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার মাজিদ মুসাভি হুমকি দিয়ে বলেন, “ইরানের ওপর যেকোনো মার্কিন হামলা, এমনকি তা সীমিত হলেও- আঞ্চলিক মার্কিন অবস্থানগুলোর ওপর ‘দীর্ঘ ও বেদনাদায়ক আঘাতের’ সূচনা করবে।”

এরআগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যৌথভাবে ইরানে আকস্মিক হামলা শুরু করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। জবাবে ইসরায়েল, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে অবস্থিত মার্কিন সামারিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। পাশাপাশি এসব তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রসহ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতেও বেশ কয়েক দফা হামলা করেছে তেহরান।

সূত্র: রয়টার্স


এমএইচআর