আন্তর্জাতিক ডেস্ক
৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০৮ এএম
ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় পেন্টাগনের নীরবতা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ সাবেক কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে সাবেক শীর্ষ সামরিক আইনজীবীও রয়েছেন।
তাদের কেউ কেউ বলেছেন, এতদিন পরও হামলার বিষয়ে অন্তত মৌলিক তথ্য প্রকাশ না করা “অত্যন্ত অস্বাভাবিক”।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে মিনাব শহরের ওই বিদ্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৬৮ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১১০ জনই শিশু।
আরও পড়ুন: ট্রাম্প-পুতিন দীর্ঘ ফোনালাপ, কী কথা হলো?
ঘটনার দুই মাস পেরিয়ে গেলেও পেন্টাগন শুধু জানিয়েছে যে বিষয়টি “তদন্তাধীন”।

যুক্তরাষ্ট্র বিমান বাহিনীর সাবেক জাজ অ্যাডভোকেট জেনারেল ও সেন্টকমের সাবেক জ্যেষ্ঠ আইন উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট কর্নেল র্যাচেল ই ভ্যানল্যান্ডিংহাম বলেন, বর্তমান অবস্থানটি “স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্টভাবে ভিন্ন”।
তিনি বলেন, অতীতের প্রশাসনগুলো অন্তত যুদ্ধ আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি দেখিয়েছে। কিন্তু বর্তমান বিবৃতিতে দায়বদ্ধতার প্রতিশ্রুতি এবং “এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে” সে বিষয়ে নিশ্চয়তার অভাব রয়েছে।
মার্চের শুরুর দিকে মার্কিন গণমাধ্যম জানায়, সামরিক তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীই স্কুলটিতে হামলা চালিয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এখনো পৌঁছায়নি পেন্টাগন।
৭ মার্চ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মিনাব হামলার জন্য ইরান দায়ী। তবে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। কয়েকদিন পর স্কুলের পাশের সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার ভিডিও সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি এটা দেখিনি” এবং প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন ইরানের কাছেও টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
১১ মার্চ এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে ট্রাম্প বলেন, “আমি এ বিষয়ে জানি না।”
বিবিসি অতীতের তিনটি ঘটনার পর্যালোচনা করে দেখেছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে বেসামরিক লোকজন নিহত হয়েছিল-প্রতিটি ক্ষেত্রেই এক মাসের কম সময়ের মধ্যে পেন্টাগন অনেক বেশি তথ্য প্রকাশ করেছিল।
হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম স্মিথ বলেন, ‘পেন্টাগনের কর্মকর্তারা তদন্তের অজুহাতে কোনো মন্তব্য করতে চাননি, যা তিনি “হতাশাজনক এবং সম্পূর্ণ অপ্রতুল” বলে উল্লেখ করেন।’
ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে একাধিকবার চিঠি দিয়ে প্রশ্ন তুললেও পেন্টাগনের জবাবপত্রে কোনো সরাসরি উত্তর দেয়া হয়নি।
পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা ওয়েস ব্রায়ান্ট বলেন, ‘প্রাথমিক তদন্তে সাধারণত দুটি বিষয় নিশ্চিত করা হয়-বেসামরিক ক্ষতি হয়েছে কি না এবং ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের কার্যক্রম ছিল কি না।’

তিনি বলেন, ‘এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়… এতে বোঝা যায়, তারা ইতোমধ্যে জানে যুক্তরাষ্ট্রই এর জন্য দায়ী, কিন্তু তা স্বীকার করতে চাইছে না। এই বিষয়ে কোনো মন্তব্যই না করা গ্রহণযোগ্য নয়।’
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ৪ মার্চ বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা কখনোই বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাই না।’
ঘটনাস্থলে স্বাধীন তদন্তে বাধা দেওয়ায় ইরানি কর্তৃপক্ষও সমালোচিত হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্ত মিশন ১৭ মার্চ সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও অনুমতি পায়নি।
সূত্র: বিবিসি
এমআই