আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
ইরানে ট্রাম্পের যুদ্ধ থামাতে আবারও উদ্যোগ নিয়েছে মার্কিন ডেমোক্র্যাটরা। এ সপ্তাহে সিনেটে যুদ্ধক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাবে ষষ্ঠবারের মতো ভোটে যেতে বাধ্য করবে দলটি।
সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছেন, '৬০ দিনের বেপরোয়া যুদ্ধের পরও রিপাবলিকানরা কি ট্রাম্পকে আবারও সমর্থন দেবে'।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, যুদ্ধ ঘোষণা করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নয়, কংগ্রেসের। খবর
ডেমোক্র্যাটরা, এর আগেও- সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে পাঁচবার চেষ্টা করেছে, যাতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধ করে এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো হামলার আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন নিতে 'বাধ্য' হয়।
মূলত ট্রাম্প যাতে কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়া কোনো বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতেই ডেমোক্র্যাটরা এই মরিয়া প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
চাক শুমার রিপাবলিকান সিনেটরদের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যখন মার্কিন সেনারা সম্মুখসমরে নিজেদের জীবন বাজি রাখছেন, তখন রিপাবলিকানদের হাত গুটিয়ে বসে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা রিপাবলিকানদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য করবেন।
শুমার আরও উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে ভোট দেওয়ার মতো যথেষ্ট সাহসী রিপাবলিকান খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত ডেমোক্র্যাটরা তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণার চূড়ান্ত ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের হাতে থাকলেও বর্তমানে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক বিতর্ক চলছে।
সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই ডেমোক্র্যাটরা বারবার চেষ্টা করে আসছেন যাতে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নিতে বাধ্য থাকেন।
তবে উভয় কক্ষেই ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকানরা অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখায় ডেমোক্র্যাটদের আনা এই প্রস্তাবগুলো বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
রিপাবলিকানরা মনে করেন, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্টের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা আশঙ্কা করছেন যে, ট্রাম্পের একক সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও বিধ্বংসী যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
-এমএমএস