আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪১ পিএম
গাজা উপত্যকায় চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনি শিশুদের নিখোঁজ হওয়া এবং ইসরায়েলি বাহিনী কর্তৃক তাদের আটকের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি সেনারা গাজার শিশুদের আটক ও স্থানান্তর করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ১০ বছরের একটি ফুটফুটে শিশুকে বিনা কারণে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনারা অপহরণ করে নিয়ে যায়।
তাকে পরে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে পাশ করা বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ডাদেশের মাধ্যমে ফাঁসি দেওয়া হয়। ইসরায়েলের এই পদ্ধতিগত গণহত্যার বিরুদ্ধে কোনও প্রতিবাদ না করে আরবরা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।
মানবাধিকার সংস্থা ডিফেন্স ফর চিলড্রেন ইন্টারন্যাশনাল-প্যালেস্টাইন (ডিসিআইপি)-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে শিশুদের আটক করে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
অনেক ক্ষেত্রে ত্রাণ শিবিরের কাছ থেকেও শিশুদের তুলে নেওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যেমন ১৬ বছর বয়সী ওমর নিজার মাহমুদ আসফুরকে একটি ত্রাণ শিবিরের কাছ থেকে আটক করে সামরিক কারাগারে নিয়ে নির্যাতন করা হয়েছিল।
অভিযোগ রয়েছে, শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের সময় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। এমনকি পানির খোঁজে যাওয়া শিশুদের ওপরও ড্রোন হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী শিশুদের এভাবে জোরপূর্বক গুম করা বা বিচারহীনভাবে আটকে রাখা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। জাতিসংঘ ইতোমধ্যে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে (আইডিএফ) শিশুদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়া অপরাধীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।
সেভ দ্য চিলড্রেন-এর তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুনের মধ্যে গাজায় প্রায় ২১ হাজার শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে, গণকবরে সমাহিত হয়েছে অথবা ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি শিশু তাদের অভিভাবক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে অথবা এতিম হয়েছে। সামরিক অভিযানের সময় আটক বা নিখোঁজ হওয়ার ফলে পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের কোনো খোঁজ পাচ্ছে না।
এ বছরের মার্চ মাসের শেষের দিকে ইসরায়েলের নেসেট ফিলিস্তিনি বন্দিদের ফাঁসিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের একটি বিতর্কিত আইন পাস করেছে।
এই আইনটি পাসের মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে থেকে ধরে আনা বন্দিদের ইসরায়েলিদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিতে পারবে দখলদার দেশটির আদালত।
মূলত, আটক ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুকে বৈধতা দিতেই এই বিতর্কিত ও মানবতাবিরোধী আইনটি পাস করা হয়েছে।
এই আইনের অধীনে, ইসরায়েলি কারা পরিষেবা কর্তৃক নিযুক্ত কারারক্ষীদের দ্বারা ফাঁসি কার্যকর করা হবে এবং এতে জড়িতদের পরিচয় গোপন রাখা হবে ও আইনি সুরক্ষা দেওয়া হবে।
এই আইনে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিশেষ আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর এবং শুধুমাত্র অনুমোদিত পক্ষের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেতে পারে, যেখানে তারা কেবল তাদের আইনজীবীদের সঙ্গে ভিডিও কলের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে পারবে।
এই আইন আদালতকে প্রসিকিউটরদের তথ্য দেওয়া ছাড়াই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি দেয় এবং সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হয় না।
এই আইনটি ফিলিস্তিনিদের সম্পর্কিত মামলা পরিচালনাকারী সামরিক আদালতগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশ্বের প্রতিটি বিবেকবান মানুষ এই গণবিরোধী কালাকানুনকে ঘৃণা করে।
-এমএমএস