আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
সারা বিশ্বে জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত হরমুজ প্রণালি ঘিরে সংকট যেন কিছুতেই কাটছে না। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ ঘিরে এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা সংকট সমাধানে আশার আলো দেখা গেলেও তা মুহূর্তেই ম্রিয়মান হয়ে যাচ্ছে। হরমুজ প্রণালি খোলা আর বন্ধ নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রশি টানাটানির অবসান কিছুতেই ঘটছে না।
চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরুর আগে তেহরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ওয়াশিংটনও তাদের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতিতে অটল রয়েছে। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনাও ভেস্তে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সৃষ্ট সংকট নতুন করে ঘনীভূত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো তারিখ এখনো নির্ধারিত হয়নি। ওয়াশিংটন তাদের অযৌক্তিক সব দাবি থেকে সরে আসতে চাইছে না। একটি যৌথ কাঠামোতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষের মুখোমুখি বসা সম্ভব নয়।
ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে। ইরানি বন্দরে অবরোধ দেওয়ার মার্কিন সিদ্ধান্ত একটি মূর্খতাসম্মত এবং অজ্ঞতাপূর্ণ পদক্ষেপ।
গত দুই দিনে হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান— উভয় পক্ষ থেকেই এসেছে একের পর ঘোষণা আসতে থাকে। এসব ঘোষণা পরস্পরবিরোধী বার্তা দিয়েছে।
শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টার দিকে (বাংলাদেশ সময় প্রায় সন্ধ্যা ৭টা), ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স-এ লেখেন, ‘হরমুজ প্রণালি যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে খোলা ঘোষণা করা হলো।’
এর কয়েক মিনিট পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ‘ধন্যবাদ’ লিখে পোস্ট করেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে, যতক্ষণ না ইরানের সঙ্গে আমাদের লেনদেন শতভাগ সম্পন্ন হয়।’
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্রায় ৪০টি দেশের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল বৈঠকের পর জানান, পরিস্থিতি অনুকূল হওয়া মাত্রই তারা নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় একটি আন্তর্জাতিক মিশনের নেতৃত্ব দেবেন।
কয়েক ঘণ্টা পর, গ্রিনিচ মান সময় রাত ১০টা ১৪ মিনিটে, মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ এক্স-এ লেখেন, ‘ট্রাম্প এক ঘণ্টার মধ্যে সাতটি দাবি করেছেন, যার সবকটিই মিথ্যা।’
তিনি আরো বলেন, ‘(যুক্তরাষ্ট্রের) অবরোধ অব্যাহত থাকলে প্রণালিটি খোলা থাকবে না।’
ট্র্যাকিং সাইট মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য বলছে, শনিবার কিছু জাহাজকে ওই জলপথ দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, গ্রিনিচ মান সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ইরানের সেনাবাহিনী জানায়, তারা হরমুজ প্রণালির ওপর পুনরায় নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি জানায়, ইরানের সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র তাদের দায়বদ্ধতা পূরণ করেনি এবং যাতায়াতের জন্য ইরানের অনুমতি প্রয়োজন।
এর কিছুক্ষণ পরই মেরিনট্র্যাফিকের তথ্য অনুযায়ী দেখা যায়, একাধিক জাহাজ দিক পরিবর্তন করে নিজেদের যাত্রা শুরুর বন্দরের দিকে ফিরে যাচ্ছে।
জেবি