আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
ভারতের আইনসভাগুলোর আসনসংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে আনা সরকারি বিল পর্যাপ্ত ভোট না পাওয়ায় পার্লামেন্টে পাস হয়নি।
এই বিলের মাধ্যমে নারীদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই বিল পাস না হওয়ার বিষয়টিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্য বিরল এক পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিরোধী দলগুলো জানায়, তারা নারী আইনপ্রণেতাদের জন্য কোটা ব্যবস্থার পক্ষে রয়েছে। তবে এই পরিকল্পনাকে নির্বাচনি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের সঙ্গে যুক্ত করার পেছনে বিজেপি সরকারের দুরভিসন্ধি রয়েছে।
বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে বলেন, ‘সংশোধনী বিলটি বাতিল হয়েছে। নারীদের নামে অসাংবিধানিক কৌশল ব্যবহার করে তারা সংবিধান ভাঙার চেষ্টা করেছে।’
মোদি সরকার এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের দাবিতে তারা প্রচারণা চালিয়ে যাবে। ভোটাভুটির আগে পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ‘এই দেশের নারীরা আপনাদের ক্ষমা করবে না।’
সরকারের দাবি ছিল, ১৯৭১ সালের আদমশুমারির পর সর্বশেষ আসন নির্ধারণ করা হয়েছিল। তাই জনসংখ্যার পরিবর্তন প্রতিফলিত করতে নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ জরুরি।
বিলটি পাস হলে ২০২৯ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনের মধ্যে লোকসভায় আইনপ্রণেতার সংখ্যা প্রায় ৫৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৮৫০ করা হতো। একইভাবে আঞ্চলিক আইনসভাগুলোও সম্প্রসারিত হতো।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লোকসভায় ভোটাভুটিতে ২৯৮ জন সদস্য মোদি সরকারের আনা বিলের পক্ষে এবং ২৩০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। তবে সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি।
বর্তমানে ভারতের পার্লামেন্টে নারীদের জন্য কোনও সংরক্ষিত আসন নেই। লোকসভায় নারী সদস্যের হার মাত্র ১৪ শতাংশ এবং রাজ্যসভায় ১৭ শতাংশ। দেশটির রাজ্য আইনসভাগুলোতে প্রায় ১০ শতাংশ আইনপ্রণেতা নারী।
-এমএমএস