আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৪ পিএম
ইউক্রেনজুড়ে গতকাল বুধবার রাতে ব্যাপক আকারে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এসব হামলায় ১৫ জন নিহত হওয়ার কথা জানা গেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, এই হামলায় আহত হয়েছেন আরো অন্তত ৯০ জন।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী কিয়েভে নিহত চারজনের মধ্যে ১২ বছর বয়সী এক কিশোর রয়েছে। এ ছাড়া দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর দিনিপ্রোতে নিহত হয়েছেন তিনজন।
অন্যদিকে, সীমান্তের ওপাড়ে রাশিয়ার ক্রাসনোদার ক্রাই অঞ্চলে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় ৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়েছে বলে টেলিগ্রামে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের গভর্নর ভেনিয়ামিন কনড্রাটিয়েভ।
গত সপ্তাহান্তে অর্থোডক্স ইস্টার উদযাপনে দুই পক্ষের স্বল্পমেয়াদী যুদ্ধবিরতির পর এই হামলাগুলো চালানো হলো। ওই যুদ্ধবিরতি চলাকালেও একে অপরের বিরুদ্ধে শত শত বার তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল উভয় পক্ষ।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো টেলিগ্রামে লিখেছেন, রাজধানীতে প্রাণহানির পাশাপাশি উদ্ধারকারীরা শহরের মধ্যবর্তী পদিলস্কি জেলায় ধসে পড়া ১৬ তলা একটি আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে এক মা ও শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন।
রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে বারবার চালানো শেল হামলায় আহতদের মধ্যে চারজন জরুরি চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন।
দিনিপ্রো অঞ্চলের প্রশাসনিক প্রধান ওলেক্সান্ডার গানঝা টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলীয় এই শহরে হামলায় ৩ জন নিহত ও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। ইন্টারনেটে প্রকাশিত ছবিতে শহরটির বিভিন্ন ভবনে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় আটজন নিহত হয়েছেন বলে টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন সেখানকার সামরিক প্রশাসনের প্রধান সের্হি লিসাক। খারকিভে ড্রোন হামলায় ৭৭ বছর বয়সী এক নারী ও ৬৬ বছর বয়সী এক পুরুষ আহত হয়েছেন বলে এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিকা বলেছেন, ‘এ ধরনের হামলাকে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এগুলো যুদ্ধাপরাধ, যা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে এবং অপরাধীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
তিনি রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া অথবা ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার মাধ্যমে অন্যান্য দেশগুলোকে ‘তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা’ নেওয়ার আহ্বান জানান। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সিবিকা লেখেন, ‘আগ্রাসনকারীর ওপর চাপ বাড়াতে প্রয়োজনীয় সব সিদ্ধান্ত এখন থেকেই কার্যকর করতে হবে।’
ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে গড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যস্থতাকারী হিসেবে এ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফা শান্তি আলোচনাও করেছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়ায় এই আলোচনা প্রক্রিয়া এখন স্থবির হয়ে পড়েছে।
ইউক্রেন বারবার রাশিয়ার আগ্রাসন স্থায়ীভাবে বন্ধ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থিতিশীল যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়ে আসছে। কিন্তু মস্কো আগে শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে জোর দিচ্ছে। কিয়েভের অভিযোগ, রাশিয়া আসলে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে আন্তরিক নয়।
এফএ