আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
যুদ্ধ অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য এখনো কোনো তারিখ চূড়ান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি এই তথ্য জানান। এসময় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আলোচনা নিয়ে গণমাধ্যমগুলোকে যাচাইবিহীন প্রতিবেদন প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মুখপাত্র তাহির বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার সময়কাল নিয়ে জল্পনা-কল্পনা পরিহার করার জন্য আমরা অনুরোধ করছি’।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের গঠনমূলক কূটনৈতিক অব্যহত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে আলোচনার বিষয়বস্তুর মধ্যে পরমাণু ইস্যুটিও রয়েছে।
এদিকে, ইরানের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ বেশ কিছু বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতভেদ রয়ে গেছে।
তিনি জানান, দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির অর্ধেকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের দূরত্ব রয়ে গেছে।
ওই ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, গতকাল পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফর কিছু ক্ষেত্রে এই মতভেদ কমাতে সাহায্য করেছে। যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানো এবং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আবার আলোচনা শুরু করার বিষয়ে সহায়তা করেছে তার এই সফর।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার আগে জোরদার কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের উদ্দেশে চার দিনের সফরে বেরিছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে জেদ্দায় বৈঠকে বসেছেন।
সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন দুই নেতা। এতে গুরুত্ব পায় পাকিস্তানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনা।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ও রোববার যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
এদিকে আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইসলামাবাদ পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং বৈঠকটি সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: রয়টার্স, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন
এমএইচআর