মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও শান্তি প্রচেষ্টার লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠকে অংশ নিতে ইরান সফরে গেছে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সম্পৃক্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ আলোচনার সঙ্গে জড়িত একটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সূত্রটি জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি লেবাননের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে পৌঁছায়, তাহলে তা পরবর্তী দফার আলোচনায় ইরানের সিদ্ধান্তের জন্য একটি ইতিবাচক সংকেত হবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই আলোচনার জন্য একটি যুক্তিসঙ্গত কাঠামো মেনে চলতে হবে, অতিরিক্ত দাবি চাপিয়ে দিয়ে প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া যাবে না এবং যুদ্ধবিরতির আগে নেওয়া অঙ্গীকার ভঙ্গ করা চলবে না।’
তাসনিম আরও বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো ওয়াশিংটনের পরবর্তী দফার আলোচনা শুরু করার আগ্রহের কথা জানালেও, ইরানি প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যৌক্তিক আলোচনা শুরু করার জন্য প্রয়োজনীয় কিছু নীতিমালা অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছে।
এরআগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করতে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির।
পাকিস্তানের আইএসপিআর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সেনাপ্রধানের সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভিও আছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি তেহরানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান।
বিজ্ঞাপন
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে এবং দ্বিতীয় দফা আলোচনা সমন্বয় করতে ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল এই সফর করছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এরআগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ইসলামাবাদে প্রথম দফায় আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো ‘বার্তা আদান-প্রদান’ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আগের বৈঠকের ধারাবাহিকতায় বুধবার তেহরান পাকিস্তানের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ইরানি কর্মকর্তারা, যেখানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অবস্থান নিয়ে ‘বিস্তারিত আলোচনা’ হবে।
এরআগে মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে। এই আলোচনার জন্য পাকিস্তানকেই উপযুক্ত স্থান হিসেবে বিবেচনা করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার ও রোববার যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে সরাসরি আলোচনায় বসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধি দল, যা ১৯৭৯ সালের পর মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ এবং ইরানের ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। তবে আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হয় এবং উভয় দেশের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।
এদিকে আলোচনা সম্পর্কে অবগত দুটি পাকিস্তানি সূত্র রয়টার্সকে জানায়, ইসলামাবাদ পরবর্তী দফার আলোচনার সময়সূচি নিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং বৈঠকটি সম্ভবত এই সপ্তাহের শেষে অনুষ্ঠিত হবে।
সূত্র: বিবিসি
এমএইচআর




