আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৪ পিএম
হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে অবরোধ কার্যকর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপরই ইরানকে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলেই ইরানি জাহাজগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
সোমবার বাংলাদেশ সময় রাত ৮টার দিকে ইরানের সব বন্দর অবরুদ্ধ ঘোষণা করে মার্কিন বাহিনী।
এরপরই নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন এবং সমুদ্রের তলদেশে পড়ে আছে... মোট ১৫৮টি জাহাজ। তবে তাদের অল্প সংখ্যক, যেগুলোকে তারা “দ্রুত আক্রমণকারী জাহাজ” বলে, সেগুলোতে আমরা আঘাত হানিনি, কারণ আমরা সেগুলোকে তেমন বড় হুমকি বলে মনে করিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সতর্কবার্তা: এই জাহাজগুলোর কোনোটি যদি আমাদের অবরোধের কাছাকাছি আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো ধ্বংস করা হবে। সমুদ্রে নৌকায় থাকা মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে (ভেনিজুয়েলায়) আমরা যে হত্যা পদ্ধতি ব্যবহার করি, ঠিক সেই পদ্ধতিই ব্যবহার করা হবে। এটি দ্রুত এবং নৃশংস।’
এরআগে সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ১৩ এপ্রিল মার্কিন সময় সকাল ১০টা (বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা) থেকে আরব উপসাগর (পারস্য উপসাগর) ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানি সমস্ত বন্দরসহ ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশকারী বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজগুলো অবরোধ প্রয়োগ করা হবে।’
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার থেকে তারা ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করা শুরু করবে। তবে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজ চলাচলে তারা বাধা সৃষ্টি করবে না।
এদিকে ট্রাম্পের হুমকি প্রতিক্রিয়ায় কঠোর সতর্ক বার্তা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেছে, ইরানের বন্দর যদি কোনো হুমকিতে পড়ে তাহলে পারস্য উপসাগর এবং ওমান সাগরের কোনো বন্দরই নিরাপদ থাকবে না।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবিতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘মধ্যপ্রাচ্যের বন্দরগুলোর নিরাপত্তা হয় সবার জন্য, নয়তো কারোর জন্যই নয়। আন্তর্জাতিক জলসীমায় সামুদ্রিক চলাচলের ওপর অপরাধী যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত বিধিনিষেধ অবৈধ এবং জলদস্যুতার শামিল।’
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দেশের আইনগত অধিকার রক্ষা করাকে একটি স্বাভাবিক ও আইনগত কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজের জলসীমায় ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগ করা ইরানি জাতির একটি স্বাভাবিক অধিকার।’
মার্কিন প্রেসিডেন্টের ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির কথা উল্লেখ করে আইআরজিসি আরও বলেছে, সমস্ত ‘শত্রুদের (যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট) জাহাজকে’ গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলো দিয়ে যাতায়াত করতে দেওয়া হবে না, তবে তেহরান নির্ধারিত শর্ত সাপেক্ষে অন্যান্য জাহাজ চলাচল করতে পারবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেলেও তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্থায়ী ব্যবস্থা দৃঢ়ভাবে বাস্তবায়ন করবে।
এছাড়াও হরমুজ প্রণালি ঘিরে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধের বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকি হলো ‘ফাঁকা বুলি’, যা বাস্তবতার সাথে মিলে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র এব্রাহিম রেজায়ই। একই সঙ্গে পরিস্থিতি সামরিক দিকে মোড় নিলে তেহরান তার জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি আরও বলেন, ‘এটা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে এবং যে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি (ট্রাম্প) ক্ষুব্ধ, তার এই সিদ্ধান্ত বাজার পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলবে।’
রেজায়ই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘আমরা সম্ভবত আমাদের হাতে থাকা এমনকিছু কৌশল প্রকাশ করবো এবার, যা এখনও এই খেলায় প্রয়োগ করা হয়নি।’
সূত্র: সিএনএন, আলজাজিরা
এমএইচআর