বিশেষ প্রতিনিধি
০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩৫ এএম
এক মাসেরও অধিক সময় পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। উভয় পক্ষই এখন দাবি করছে, যুদ্ধে তাদের বিজয় হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে মূলত ইরানই যুদ্ধবিরতির এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশটির সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুমোদন করেছে।
এই চুক্তি নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির সম্মতিতে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিতে প্রকাশিত বিবৃতিতে ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়, এই যুদ্ধবিরতিকে তারা ‘ইরানের বিজয়’ হিসেবে দেখছে।
পরিষদ জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, এটি যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি নয়, বরং স্থায়ী সমাধানের দিকে একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ মাত্র।

পুরো প্রক্রিয়াটি সফল হয়েছে পাকিস্তানের সক্রিয় মধ্যস্থতায়। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের প্রচেষ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই অস্থায়ী বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। ইরানের বিবৃতিতে পাকিস্তানের এই ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।
চুক্তি অনুসারে, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে ইসলামাবাদে। আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) থেকে এই বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উভয় পক্ষের প্রতিনিধিরা সেখানে মুখোমুখি বসে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার উপায় খুঁজবেন।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চূড়ান্ত বিজয় হয়েছে।
মঙ্গলবার ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি জানানোর পর এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
এএফপিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বলেন, এটা আমাদের সম্পূর্ণ এবং সর্বাত্মক বিজয়… একদম শতভাগ। এ ব্যাপারে আর কোনো প্রশ্ন নেই।
এর আগে মার্চের মাঝামাঝি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে ১৫ পয়েন্টের একটি শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ইরান সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে পরে তিনি সেটির একটি সংশোধিত সংস্করণ পাঠান। সেখানে ৪৫ দিনের যুদ্ধবিরতির উল্লেখ ছিল।

ইরান সেই প্রস্তাব পর্যালোচনা করে মঙ্গলবার দুই সপ্তাহ যুদ্ধবিরতির পক্ষে মত দেয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও তা মেনে নেন।
তবে এর আগের দিনগুলোতে ইরানকে ব্যাপক হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ইরান যদি সমঝোতা চুক্তিতে না আসে— তাহলে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সেতুসহ সব গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন তিনি।
নতুন এই ২ সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি যদি ব্যর্থ হয় এবং ইরান যদি সমঝোতা চুক্তিতে না আসে— সেক্ষেত্রে ট্রাম্প তার হুমকি কার্যকর করবেন কি-না— এএফপির এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন, “আপনাদের ধৈর্য ধরতে হবে। চীন এক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের দুই সপ্তাহের বিরতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জয়’ বলল হোয়াইট হাউসও।
সামাজিক মাধ্যমে এক্সে (আগের টুইটার) হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট লিখেছেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী সম্ভব করেছেন।’
তিনি আরো লিখেছেন, আমাদের সামরিক বাহিনীর সফলতা সর্বোচ্চ কূটনৈতিক সুবিধা তৈরি করেছে, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং দলের ‘কঠোর আলোচনার’ মাধ্যমে এখন কূটনৈতিক সমাধান এবং দীর্ঘমেয়াদী শান্তির পথ খুলেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়।
দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। তারপর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে।
আগামী ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হতে যাওয়া শান্তি আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ইরান যে ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে, তার বিস্তারিত সামনে এসেছে।
এই প্রস্তাবগুলোতে ইরান কেবল নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি সম্পূর্ণ বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
এ যুদ্ধবিরতির ফলে কারা বিজয়ী হয়েছে- তা নিয়ে ধন্দে আছে গোটা বিশ্ববাসী, তবে এটা নি:সন্দেহে বলা যায়- এতে মানবতার বিজয় হয়েছে।
-এমএমএস