ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির যে সিদ্ধান্তে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মত হয়েছেন তাতে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই তথ্য জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়। অর্থাৎ, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত থাকবে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘বিশ্বের জন্য ইরান যাতে পারমাণবিক, ক্ষেপণাস্ত্র ও সন্ত্রাসী হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করার মার্কিন প্রচেষ্টাকে আমরা সমর্থন করি।’
বিজ্ঞাপন
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে জানিয়েছে, আসন্ন আলোচনায় তারা একসঙ্গে লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে লেবানন অন্তর্ভুক্ত নয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আচমকা হামলা চালায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। দুই দেশের যৌথ হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়। দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়। তারপর থেকে টানা যুদ্ধ চলছে। তিন দেশের যুদ্ধের কারণে অশান্ত হয়ে উঠেছে পশ্চিম এশিয়া।
দীর্ঘ এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধ অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত হয়েছে।
দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতির বিষয়ে ট্রাম্পের ঘোষণার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে জানান, লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি লিখেছেন, ‘আমি এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি এবং উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে, সকল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য আরও আলোচনার প্রয়োজন। সেই আলোচনার জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
কিন্তু লেবানন নিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিন্নমন পোষণ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।
লেবানন গত ২ মার্চ থেকে পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে ইরানপন্থী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইসরায়েলও লেবাননে হামলা চালায়। এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘর্ষে দেড় হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, অসংখ্য মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
এমআর

