images

আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের বেপরোয়া সিদ্ধান্তে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ‘পুড়ে ছাই হয়ে যাবে’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:০৪ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, তার দেওয়া মঙ্গলবারের সময়সীমার মধ্যে ইরান যদি কোনো চুক্তিতে না পৌঁছায় এবং হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির ওপর ‘নরক’ নামিয়ে আনবেন। তবে তার এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ট্রাম্পের এমন বেপরয়া সিদ্ধান্তে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ‘পুড়ে ছাই হয়ে যাবে’। 

রোবরার নিজের সামাজিক যোগাযোগ ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অশালীন শব্দে ভরা একটি পোস্টে ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও পরিবহন অবকাঠামোর ওপর আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন, যা সমালোচকদের মতে যুদ্ধাপরাধের শামিল হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ইরানে মঙ্গলবার একই সাথে বিদ্যুৎকেন্দ্র দিবস এবং সেতু দিবস হবে। এর মতো আর কিছুই হবে না!!! প্রণালিটা খুলে দাও পাগল বেজম্মারা, না হলে তোমাদের জাহান্নামে পড়তে হবে। শুধু দেখো! সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর।’ 

পৃথক একটি পোস্টে ইরানকে ইঙ্গিত করে নতুন ডেডলাইন দিয়ে তিনি লেখেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা পূর্বাঞ্চলীয় সময়!’। 

একই দিন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে এ প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘তারা যদি (ইরান) এগিয়ে না আসে এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধই রাখতে চায়, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র বলতে আর কিছু থাকবে না তাদের। পুরো ইরানে যত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র আছে— সব ধ্বংস করা হবে।’

ট্রাম্পের এই হুমকির জবাবে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বিভ্রান্ত করছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কলিবাফ লেখেন, ‘আপনার (ট্রাম্প) এই বেপরোয়া পদক্ষেপ প্রতিটি মার্কিন পরিবারের জন্য দেশটিকে এক জীবন্ত নরকে দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্দেশ মানার জেদে আপনি পুরো অঞ্চলকে আগুনের মুখে ঠেলে দিচ্ছেন।’

ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কোনো ভুল করবেন না: যুদ্ধাপরাধের মাধ্যমে আপনি কিছুই অর্জন করতে পারবেন না’। 

এদিকে মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণ সত্ত্বেও নিজেদের লড়াই করার শক্তি যে এখনো আছে, তা দেখিয়ে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা বাড়িয়েছে এবং কুয়েত, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই হামলাগুলো একাধিক উপসাগরীয় রাষ্ট্রজুড়ে আন্তঃসীমান্ত হামলা চালানো এবং অবকাঠামো ব্যাহত করার ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতাকে তুলে ধরেছে, যা জ্বালানি ও সামুদ্রিক কেন্দ্রগুলোর দুর্বলতা প্রকাশ করে দিয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

এমএইচআর