শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে প্রস্তাব পাকিস্তানের, যুদ্ধবিরতি হতে পারে আজই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৫ পিএম

শেয়ার করুন:

ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পাকিস্তানের, কার্যকর হতে পারে

পাঁচ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাত নিরসন ও অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠিয়েছে প্রধান মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। উভয় পক্ষ এই প্রস্তাব গ্রহণ করলে আজ সোমবার থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর এবং হরমুজ প্রণালি খোলার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে অবগত এক সূত্র।

সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান সংঘাত নিরসনে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে আর তা গতকাল (রোববার) রাতেই ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিনিময় করেছে। এই রূপরেখায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও একটি ব্যাপক চুক্তিসহ দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।


বিজ্ঞাপন


‘আজই (সোমবার) সব বিষয়ে একমত হতে হবে’— উল্লেখ করে সূত্র আরও জানায়, প্রাথমিক বোঝাপড়াটি একটি সমঝোতা স্মারক হিসেবে তৈরি করা হবে আর তা আলোচনায় যোগাযোগের একমাত্র চ্যানেল পাকিস্তানের মাধ্যমে ইলেকট্রনিভাবে চূড়ান্ত করা হবে।

এর আগে রোববার মার্কিন, ইসরায়েলি ও মধ্যপ্রাচ্যের সূত্রগুলোর বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের একটি দল দ্বি-স্তরীয় একটি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ৪৫ দিনের সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে আলোচনা করছেন, যা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটতে পারে।

রয়টার্সকে ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ‘রাতভর’ যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যে ছিলেন।

প্রস্তাব অনুযায়ী, অবিলম্বে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে ও হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হবে এবং বিস্তৃত সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার পর ১৫ থেকে ২০ দিনের সময় দেওয়া হবে। ‘ইসলামাবাদ চুক্তি’ নামে পরিচিত এই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালীর জন্য একটি আঞ্চলিক কাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকবে এবং ইসলামাবাদে চূড়ান্ত সশরীরে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।


বিজ্ঞাপন


এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

ইরানি কর্মকর্তারা এর আগে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, তেহরান একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি চায় যেখানে নিশ্চয়তা দেওয়া হবে যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ফের হামলা চালাবে না। তারা বলেছেন, পাকিস্তান, তুরস্ক ও মিশরের মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন।

সূত্র জানায়, চূড়ান্ত সমঝোতায় নিষেধাজ্ঞায় ছাড় ও জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র বানানোর চেষ্টা করবে না, এমন প্রতিশ্রুতি দেবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এদিকে পাকিস্তানের দুটি সূত্র জানিয়েছে, সামরিক ও বেসামরিক পর্যায়ে ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া সত্ত্বেও ইরান এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি।

‘ইরান এখনো কোনো জবাব দেয়নি’ উল্লেখ করে একটি সূত্র বলেছে, পাকিস্তান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলোর পক্ষে এখনও কোনো প্রতিশ্রুতি আসেনি।

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে চীনের কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেননি।

এদিকে সর্বশেষ এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে এসেছে যখন ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ইরানকে চাপ দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দ্রুত যুদ্ধবিরতি না হলে কঠিন পরিণতির ব্যাপারে ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

সূত্র: রয়টার্স

এমএইচআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর