images

আন্তর্জাতিক

ইরানের অবরোধে উপসাগরে আটকা পড়েছে ২১৯০ জাহাজ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরোধের কারণে বুধবার আরব উপসাগরে আটকা পড়ে অন্তত ২,১৯০টি বাণিজ্যিক জাহাজ।

এর মধ্যে ৩২০টিরও বেশি তেল ও গ্যাস ট্যাংকার। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে কেবল সীমিত ও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত জাহাজ চলাচল করছে। খবর আরব নিউজের।

আটকা পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ১২টি খুব বড় গ্যাসবাহী জাহাজ এবং ৫০টি খুব বড় অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজ রয়েছে। 

সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা কেপলার জানিয়েছে, মঙ্গলবার ও বুধবারের মধ্যে মাত্র ছয়টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে। সাধারণত এ প্রনালী দিয়ে আগে দৈনিক ১২০টি জাহাজ চলাচল করেছে।

যে জাহাজগুলো প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, সেগুলোকে ইরানের উপকূলের কাছে লারাক দ্বীপের একটি অনুমোদিত করিডোর দিয়ে পাঠানো হয়েছে।

iran

গত সপ্তাহ থেকে অন্তত ৪৮টি জাহাজ এই পথটি ব্যবহার করেছে, যার বেশিরভাগই ইরান বা তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কযুক্ত দেশগুলোর জাহাজ।

২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে ইরান প্রণালিটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে—যেটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস চলাচল করে। 

যেসব জাহাজকে যাতায়াতের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তাদের ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত মাশুল দিতে হচ্ছে, যাকে ‘তেহরান টোল বুথ’ বলা হচ্ছে। 

যদিও ইরান ইঙ্গিত দিয়েছে যে, মালয়েশিয়াসহ মিত্র দেশগুলোর জাহাজের জন্য এই মাশুল মওকুফ করা হতে পারে।

মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেট্রোনাস, সাপারা এনার্জি এবং এমআইএসসি-র মতো কোম্পানির মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি ট্যাংকার যাতায়াতের অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছে। 

তেহরান কুয়ালালামপুরকে আশ্বস্ত করেছে যে, শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের কারণে তাদের জাহাজের ওপর কোনো টোল আরোপ করা হবে না।

তবে কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, বিপুল সংখ্যক জাহাজ নোঙর করে অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকায় যাতায়াতে বিলম্ব হতে পারে।

চীন নিশ্চিত করেছে যে, সম্প্রতি ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর’ সঙ্গে সমন্বয়ের পর তাদের অন্তত তিনটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং ডেটা থেকে দেখা গেছে, দুটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ উপসাগরটি ত্যাগ করেছে। 

বিশ্লেষকরা বলেছেন, সংঘাত শুরু হওয়ার পর এই প্রথম কোনো ইরানি নয় এমন কন্টেইনার জাহাজ উপসাগর ছেড়ে গেল।

আরও কয়েকটি জাহাজও বের হতে সক্ষম হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতের অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি গ্রিক-পরিচালিত ট্যাঙ্কার এবং জরুরি সরবরাহ বহনকারী বেশ কয়েকটি ভারতীয় পতাকাবাহী তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী জাহাজ। 

জাহাজ চলাচল সূত্র জানিয়েছে, মাইন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের মতো ঝুঁকি থেকে বাঁচতে কিছু নাবিকদল রাতে জাহাজ চালানো বা ট্র্যাকিং ট্রান্সপন্ডার নিষ্ক্রিয় করার মতো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

ইরানের বিরোধের কারণে সৌদি আরব এবং কাতারের মতো প্রধান উৎপাদকদের জ্বালানি রফতানি কার্যত বন্ধ রয়েছে এবং শত শত জাহাজ ও আনুমানিক ২০ হাজার নাবিক এখনও উপসাগরের মধ্যে ও আশেপাশে আটকা পড়ে আছেন।

প্রণালিটি অতিক্রম করে তেলবাহী একটি পাকিস্তানি জাহাজ বুধবার দক্ষিণের বন্দর নগরী করাচিতে পৌঁছেছে এবং আরেকটি জাহাজ বিকল্প পথে বন্দরে এসেছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে আরও চালান আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

এই সংকট ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে জোরালো করেছে। নৌ চলাচল অব্যাহত রাখার উপায় বের করতে ব্রিটেন প্রায় ৩৫টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে চীন ও পাকিস্তান যৌথভাবে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং সব পক্ষকে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার জন্য অনুরোধ করেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার তেহরানকে অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং সতর্ক করে দিয়েছেন যে, দেশটি তা না মানলে ওয়াশিংটন কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

-এমএমএস