শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ঢাকা

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৩০ এএম

শেয়ার করুন:

ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই লাফিয়ে বাড়ল তেলের দাম
ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণের পরেই আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ক্রুড অয়েলের দাম। তার বক্তব্যের পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলারে পৌঁছেছে, আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুডের দাম ১০৪ ডলার ছুঁয়েছে।

ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে কী বলেন সে দিকে নজর ছিল গোটা বিশ্বের। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্য শুনে ইরানের যুদ্ধ পরিস্থিতির আরো অবনতির শঙ্কা তৈরি হয়। এর জেরেই ক্রুড অয়েলের দাম ফের লাফিয়ে বেড়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


বিজ্ঞাপন


জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেল সরবরাহের প্রাণরেখা হিসেবে বিবেচিত। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে হরমুজ প্রণালি, যার এক পাশে ইরান, অন্য পাশে ওমান।

ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, কুয়েত, বাহরাইন ও কাতার থেকে অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারগুলো এই সরু পথ দিয়েই চলাচল করে।

বিশ্বের মোট তেল, কনডেনসেট ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় ১৫ থেকে ২০ শতাংশ এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশের বেশি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা তেলের প্রায় ৮২ শতাংশ যায় এশিয়ায়, বাকি অংশ ইউরোপে। চীনের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ২৪ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়।


বিজ্ঞাপন


প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ৩০০টি জাহাজ এই পথে চলাচল করে; ব্যস্ত সময়ে কখনও কখনও প্রতি ছয় মিনিট পরপর জাহাজ চলতে দেখা যায়।

trump-2
জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই হুমকি দিয়ে আসছিল, ইরান আক্রান্ত হলে এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়া হবে।

হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক বাজারে তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়ে দাম হু হু করে বাড়বে এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। তেল যেহেতু বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি, তাই দামের যে কোনো উল্লম্ফন বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলবে।

এমন শঙ্কার মধ্যে ইরানে হামলা শুরু হলে ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দেয় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, এই পথ দিয়ে কোনো জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করলে সেটিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হবে। এরপর থেকে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ থাকায় হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেলের দাম। গতকাল বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল।

কিন্তু ট্রাম্পের জাতির উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যের পর এখন তা ৫ শতাংশ লাফ দিয়ে বেড়ে ১০৬.২৯ ডলারে পৌঁছেছে। একইসঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪.২৯ ডলারে উঠেছে।

আজকের ভাষণে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো তেল আসে না আমেরিকার। ওই রুটের ওপর আমেরিকা নির্ভরশীল নয়। আমাদের ওখানকার তেলের দরকারও নেই। এরপর হরমুজ প্রণালির ওপর যেসব দেশ নির্ভরশীল তাদের এগিয়ে আসতে বলেন ট্রাম্প। প্রয়োজনে তাদের সাহায্যের আশ্বাসও দিয়েছেন।

harmuj
বিশ্বের জ্বালানি বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি।

জ্বালানি পেতে সমস্যায় থাকা দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘হয় আমেরিকার কাছ থেকে জ্বালানি কিনুন অথবা হরমুজ প্রণালি থেকে নিয়ে আসুন।’

তাদের কাছে প্রচুর তেল আছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গেই সাহস সঞ্চয় করে হরমুজ প্রণালিকে রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বানও জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ওই প্রণালিকে নিজেদের জন্য ব্যবহার করার পরামর্শও দেন ট্রাম্প। তার দাবি এই কাজটা আগেই করা উচিত ছিল ওই দেশগুলোর।

ইরানের তেলের ভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ করার ক্ষমতা এবং সুযোগ থাকলেও তারা তা করেননি বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।

এমআর

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর