আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৬ এএম
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি প্রকৃত বিনিয়োগ বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া ভাষণের শুরুতেই নাসার ‘আর্টেমিস-২’ মিশনকে চাঁদে সফল উৎক্ষেপণের জন্য ধন্যবাদ জানান ট্রাম্প। যাত্রা করা নভোচারীদের সাহসী উল্লেখ করে তাদের প্রশংসা করেন। এরপর এক মাস ধরে চলা ইরান যুদ্ধ নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেন, ‘ইরানে মার্কিন অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের নৌবাহিনীকে নিশ্চিহ্ন করা এবং পরমাণু বোমা তৈরির ক্ষমতা নষ্ট করে দেওয়া।’
ট্রাম্প জানান, ‘সামরিক শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অপ্রতিরোধ্য। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি প্রকৃত বিনিয়োগ।’
ভাষণে ইরানের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার প্রসঙ্গেও কথা বলেন ট্রাম্প। নিকোলাস মাদুরোকে দ্রুত গ্রেফতার করার অভিযানের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। বলেন, ‘মাদুরোর গ্রেফতার অভিযান বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হয়েছে।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার তেল উৎপাদন নিয়েও বার্তা দেন ট্রাম্প। জানিয়ে দেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশ থেকে তেল কেনার প্রয়োজন নেই।
১৯ মিনিটের ভাষণে ইরান যুদ্ধ শেষের ইঙ্গিত দিয়ে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমরা ইরানের দুষ্ট শক্তিকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য শেষ করার প্রান্তে। আমাদের সব কার্ড আছে, তাদের কিছুই নেই।’
সংঘাতের কারণে তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক সমস্যার কথা স্বীকার করে গ্যাসের দাম সাময়িকভাবে বৃদ্ধির জন্য ইরানকে দায়ী করে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তি স্বনির্ভর হিসেবে উপস্থাপন করেন তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পরই জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যায়, তবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কমেনি।
ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালী বন্ধ রেখেছে এবং সংঘাতের শুরু থেকে তেল ও গ্যাস ট্যাংকারসহ অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে আক্রমণ চালাচ্ছে। এর ফলে তেলের দাম আকাশছোঁয়া। যুক্তরাষ্ট্রে এ সপ্তাহে গ্যাসের গড় দাম প্রতি গ্যালন চার ডলার অতিক্রম করেছে, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ।
ট্রাম্প অর্জনের তালিকা গুনে বলেন, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ধ্বংসপ্রায় অবস্থায়, দেশটি দুর্বল এবং ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য আর হুমকি নয়।’ তবে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আগামী কয়েক সপ্তাহ ইরানকে ‘চরমভাবে আঘাত’ করবে।
‘আমরা তাদের এমন অবস্থায় ফিরিয়ে আনব, যা তারা প্রাপ্য।’ বলেন ট্রাম্প।
এক মাস আগে থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ এখনো চলছে। যুদ্ধে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। এছাড়া ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা তেহরানে দুই ধাপের আক্রমণ চালিয়েছে এবং লেবাননের বৈরুতে হামলা চালিয়ে হিজবুল্লাহর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করেছে। ইরানও ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে ইরানে অন্তত ১,৯০০ মানুষ নিহত ও ২০,০০০ আহত হয়েছে, যদিও সঠিক সংখ্যা যাচাই করা কঠিন।
লেবাননে ১,৩০০-এর বেশি মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের অধিকাংশই সাধারণ লেবানিজ নাগরিক, তবে হিজবুল্লাহর দাবি, তাদের ৪০০ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলেও ১৯ জন নিহত ও ৫১৫ আহত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৩ সেনা নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন শতাধিক।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড জানিয়েছে, অপারেশন এপিক ফিউর শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানের মধ্যে ১২,৩০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তু আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে।
যুদ্ধের শুরু থেকে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বিপরীত ও বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানের নেতৃত্ব স্থায়ীভাবে অস্ত্রবিরতি চাচ্ছে, যদিও তেহরান তা ‘মিথ্যা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এমআর