আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২৬ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
হরমুজ প্রণালির পর এবার বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বাণিজ্যিক নৌপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালি অবরোধের হুমকি দিয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল খার্গসহ ইরানের দ্বীপপুঞ্জে হামলার জবাবে এই পদক্ষেপ নিতে পারে তেহরান।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এক প্রতিবেদনে জানায়, দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এ ধরনের পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে।
আইআরজিসির এক জ্যেষ্ঠ কমান্ডার বলেন, ‘শত্রুরা যদি ইরানের দ্বীপপুঞ্জ বা মূল ভূখণ্ডে স্থল হামলা চালাতে চায়, কিংবা পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরে নৌ চলাচলের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়। তাহলে বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ নতুন ফ্রন্ট খোলা হতে পারে। যাতে তাদের এই পদক্ষেপ শুধু যে তাদের কোনো উপকারে আসবে না তাই নয়, বরং তাদের খরচও দ্বিগুণ হয়ে যাবে।’
প্রসঙ্গত, ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের কাছে অবস্থিত এই সংকীর্ণ জলপথটি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং সুয়েজ খালে নৌযানের চলাচল অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণও করে। বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় ১২ শতাংশই বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়, যা এটিকে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম নৌপথ করে তুলেছে।
মূলত, বাব আল-মান্দেবের অবস্থান ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে হলেও এই প্রণালিতে অবরোধ জারির সক্ষমতা আছে ইরানের।
ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীও মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে যোগ দেবে এবং তেহরানকে ইয়েমেনের কাছে আরব উপদ্বীপের দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত বাব আল-মান্দেব নিয়ন্ত্রণ নিতে সাহায্য করবে।
আইআরজিসির সূত্রের বরাতে তাসনিম নিউজ আরও জানিয়েছে, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর বিপদ বাড়াতে এবং এই জলপথে একটি ‘বিশ্বাসযোগ্য হুমকি’ তৈরি করার জন্য দক্ষ ভূমিকা পালনে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে হুথিরা। ইরান ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন ও অস্ত্র সরবরাহ করে, যারা গাজায় ইসরায়েলের বোমাবর্ষণের প্রতিশোধ হিসেবে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ আক্রমণ শুরু চালিয়ে আসছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের জেরে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহনের সমুদ্র পথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে ইরান, যা তেলের বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এবার বাব আল-মান্দেবে যেকোনো ধরনের অচলাবস্থা মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি
এমএইচআর